,

তীব্র গরমেও নবীগঞ্জে ভয়াবহ লোডশেডিং :: বিপর্যন্ত জনজীবন

জাবেদ তালুকদার : দেশব্যাপী চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রীর আশপাশে থাকছে। এই তীব্র তাপপ্রবাহেও নবীগঞ্জে থেমে নেই বিদ্যুৎের অসহনীয় লোডশেডিং। পৌর শহর থেকে গ্রামঞ্চল, প্রত্যেক এলাকাতেই দিনে অন্তত ১০-১২ বার আসা যাওয়া করে বিদ্যুৎ। ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রায় ১২-১৪ ঘন্টাই থাকে না বিদ্যুৎ। সামান্য গরমেই যেখানে বিদ্যুতের ব্যবহার অপরিহার্য, সেখানে রেকর্ডিও তাপমাত্রায় ঘন ঘন হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। বিদ্যুতের ব্যাপক লোডশেডিং জনজীবনকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। ঘরে-বাইরে নেই শান্তি।
এছাড়া সামান্য বাতাস কিংবা বৃষ্টি হলেই সঙ্গে সঙ্গে চলে যায় বিদ্যুত। একবার চলে গেলে আর আসে না কয়েক ঘণ্টার মধ্যেও। অফিসের জরুরি নম্বরে একাধিক ফোন করলেও কোনো উত্তর মিলে না। ঘনঘন বিদ্যুত বিভ্রাটের কারণে বাসা বাড়ির ফ্রিজ, টিভিসহ ইলেক্ট্রিক সামগ্রী বিকল হচ্ছে। অফিস আদালতসহ বাসা-বাড়ির কাজে ব্যাঘাত ঘটছে।
তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। সারাদিন পরিশ্রমের পর রাতে পরিপূর্ণ বিশ্রাম করতে না পারায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে তাদের জীবন। অনেকেই তীব্র তাপদাহ এবং লোডশেডিংয়ের কারণে খোলা জায়গায় হাতপাখা দিয়ে নিজেকে বাতাস করছেন। আবার কেউ খালি গায়ে গামছা গলায় বিদ্যুতের অপেক্ষায়। গরম আর লোডশেডিংয়ের মাঝে একটু স্বস্তির খোঁজে মধ্যরাতেও ঘরের বাইরে দেখা যায় অনেককে।
গ্রাহকরা বলছেন, নবীগঞ্জ থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সারাদেশে সরবরাহ করা হয় আর নবীগঞ্জবাসীকে বছরের পর বছর লোডশেডিংয়ে ভূগতে হচ্ছে। এ যেন বাতির নিছে অন্ধকার নবীগঞ্জ।
এদিকে কেউ কেউ আইপিএস বা জেনারেটরের সাহায্যে বিদ্যুতের অভাব মেটালেও দ্রর্বমুল্যের বাজারে গরিব-খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে মোমবাতি জোগাড় করাই কষ্টসাধ্য। বিদ্যুৎ সংকটে বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে প্রচন্ড গরমে হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগবালাই দেখা দিয়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে হাসপাতালে রোগীদের সেবায় হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের।
গ্রাহকদের অভিযোগ, নবীগঞ্জে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১২ ঘণ্টা বিদ্যুতের লোডশেডিং করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় সব এলাকায় বিদ্যুৎ আসলে থাকে আধা ঘণ্টা, আর গেলে দুই ঘণ্টায়ও আসে না। বিদ্যুতের একটানা বেহাল দশায় গ্রাহকরা বলছেন বিদ্যুতের ভেলকিবাজি আমাদের সহ্যসীমা অতিক্রম করেছে। বিবেকহীনভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা চলছে বিদ্যুৎের ডিগবাজি।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে গ্রাহকরা অকথ্য ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবার দাবি করে আসলেও ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলছে না গ্রাহকদের। ঝড়-বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ না থাকা স্বাভাবিক ঘটনা হলেও, আকাশে মেঘ উঠতেই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সাংস্কৃতি চালু রয়েছে নবীগঞ্জে। সবমিলিয়ে নবীগঞ্জের বিদ্যুৎ নিয়ে চরম ধোয়াশায় রয়েছেন গ্রাহকরা।
নবীগঞ্জে দ্রুত বিদ্যুত ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হয়ে এভাব চলতে থাকলে গ্রাহকদের ক্ষোভ বেড়ে যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।


     এই বিভাগের আরো খবর