
নিজস্ব প্রতিনিধি ॥ শীতবস্ত্র বিতরণের মাধ্যমে হবিগঞ্জের দাঁঙ্গা, হাঙ্গামা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, ইভটিজিং প্রতিরোধে গণসচেতনার ব্যতিক্রম উদ্যোগ নিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা (বিপিএম সেবা)। তিনি জেলার বিভিন্ন স্থানের শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণে উপস্থিত লোকজনদের দাঁঙ্গা, হাঙ্গামা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, ইভটিজিং প্রতিরোধে সচেতনা মূলক বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। পুলিশ সুপার এ ধরণের কর্মকান্ড স্বাগত জানিয়েছেন সর্ব মহল। ইতিপূর্বে পুলিশ সুপার হবিগঞ্জের ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানের দরিদ্র শিশু, বৃদ্ধ, চা বাগানের শ্রমিক, মৎস্যজীবিসহ শীতার্তদের মধ্যে তার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করছেন। শীতবস্ত্র বিতরণীয় অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার মুরুব্বীয়ানগণ অংশ নিচ্ছেন। এ সময় পুলিশ সুপার শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, নিয়মিত স্কুলে পাঠানো, অপরাধ মূলক কর্মকান্ড থেকে দুরে রাখাসহ অভিভাবকদের সচেতনা মূলক বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। পাশাপাশি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে যাতে কেউ সংঘর্ষে জড়িত হতে না পারে এ বিষয়ে উপস্থিত জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গদের তিনি সচেতন করে তুলছেন। এছাড়াও প্রত্যেক এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণ, জঙ্গিবাদ, ইভটিজিং, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন। গতকাল শুক্রবার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা উদ্যোগে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা এলাকায় ৪ শ’ জন শীতার্ত দরিদ্র মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল ও সোয়েটার বিতরণ করা হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন্দ্র চাকমা, আজমিরীগঞ্জ থানার ওসি শেখ নাজমুল, হবিগঞ্জ টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ছানু মিয়া, নিউজ টুয়েন্টি ফোর টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি শ্রীকান্ত গোপ, এশিয়ান টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি এসএম সুরুজ আলী। শীতবস্ত্র বিতরণের পূর্বে তিনি বলেন-হবিগঞ্জ আগের চেয়ে অনেক উন্নত একটি জেলা। সিলেট বিভাগের ৪টি জেলার মধ্যে হবিগঞ্জ অনেক এগিয়ে রয়েছে। দেশব্যাপী হবিগঞ্জের দ্যা প্যালেস সুনাম বয়ে আনছে। হবিগঞ্জের অসংখ্য শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। এসব শিল্প কারখানায় হাজার হাজার শ্রমিক কর্ম করছেন। শিক্ষায়-ধিক্কায় হবিগঞ্জ এগিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়াও এ জেলায় প্রাকৃতি সম্পদ রয়েছে। হাওর-বাওর নদী, নালা, খাল, বিল প্রকৃতির সুন্দর্য্যে ভরপূর এ জেলা। এ জেলার একটি র্দুনাম রয়েছে সেটি হলো দাঙ্গা। সামান্য কিছু হলেই এ জেলার বিভিন্ন স্থানের লোকজন দাঙ্গায় জড়িয়ে পড়েন। তুচ্ছ ঘটনায় অকারণে অনেক তর-তাজা প্রাণ ঝড়ে যাচ্ছে। কেন প্রাণ ঝড়ে যাবে?। দাঁঙ্গা-হাঙ্গামার জন্য আমরা যারা পুলিশ প্রশাসনে কাজ করছি আমাকেও উপর মহলে জবাব দেহিতা করতে হচ্ছে। আমরাই কেন জবাব দেহিতা করবো। তিনি বলেন-দাঁঙ্গা প্রতিরোধে আমার সতেচনা মূলক বিভিন্ন কর্মকান্ড ইতিমধ্যে হাতে নিয়েছি। তিনি বলেন-আসুন আমরা সকলে মিলে দাঙ্গা, হাঙ্গামা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, ইভটিজিং প্রতিরোধের সকলকে সতেচন হতে হবে। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ শৈলেন্দ্র চাকমা বলেন-শীতবস্ত্র বিতরণের পাশাপাশি সকল ধরণের অপরাধ কর্মকান্ড থেকে জনগণ বিতরণ রাখার জন্য পুলিশ সুপার (স্যার) এর নেতৃত্বে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। শিবপাশা বাজারে ব্যবসায়ী শেখ মামুন জানান, ইতিপূর্বে হবিগঞ্জে অনেক সুপার সুপার দেখেছি। কিন্তু এ ধরণের সামাজিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে কাউকে সচেতন করে তুলতে দেখিনি। আমরা পুলিশ সুপারের এ ধরণের কর্মকান্ডকে স্বাগত জানাই। ভবিষ্যতে পুলিশ সুপার এর গণসচেতন মূলক কর্মকান্ড যাতে অব্যাহত থাকে এই প্রত্যাশাই করছি। এছাড়াও উপস্থিত জনপ্রতিনিধিরা পুলিশ সুপারের এ ধরণের কর্মকান্ডের প্রশাংসা করেন।