1. admin@wordpress.com : Adminroot :
  2. dailyhabiganj_shomoy@yahoo.com : Habiganj Shomoy : Habiganj Shomoy
  3. admin@wordpress.com : root :
  4. dailyhabiganjshomoy@gmail.com : shomoy2017 : দৈনিক হবিগঞ্জ সময়
February 9, 2026, 12:50 am

পেঁয়াজের দাম বাড়ানো ব্যবসায়ীদের ক্রসফায়ারের দাবি সংসদে

Reporter
  • Updated Friday, November 15, 2019
  • 375

সময় ডেস্ক ॥ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে পেঁয়াজের দাম অসহনীয় পর্যায়ে বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্যরা। একই সঙ্গে যেসব অসাধু ব্যবসায়ী পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর সঙ্গে জড়িত তাদের ক্রসফায়ারে দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে। বাজারে পেঁয়াজের প্রচুর জোগান থাকলেও ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণে দাম বাড়ছে উল্লেখ করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্যরা। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে এ ব্যাপারে কথা বলেন তারা। এ সময় সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্ন ও বিএনপির হারুনুর রশিদ বক্তব্য রাখেন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এ বিষয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন। তিনি বলেন, পেঁয়াজের ঝাঁজ এখন সর্বত্র। পেঁয়াজের দাম কেন বাড়ছে এ বিষয়টি আমার কাছে বোধগম্য নয়। এতে আমাদের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভারতে গিয়ে বলেছিলেন পেঁয়াজের ঝাঁজ বেড়ে গেছে। তিনি অনুরোধ করেছিলেন পেঁয়াজের রফতানি বন্ধ করবেন না। তিনি বলেছেন বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি করেন। সেজন্য আমি
অনুরোধ করব, এখানে (সংসদে) মাননীয় অর্থমন্ত্রী আছেন, পেঁয়াজের ব্যাপারে আপনাদের কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া উচিত। আরও তৎপর হওয়া উচিত। আমাদের বাণিজ্যমন্ত্রীকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করব। ব্যবস্থা না নিলে অবস্থা খুবই খারাপ হবে। এ বিষয়ে যদি অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী সংসদে জবাব দেন তাহলে আমরা সুস্থ হবো। এরপর মোহাম্মদ নাসিমের বক্তব্যের সমর্থন করে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির ব্যাপারে মাননীয় অর্থমন্ত্রীর অনেক কর্তব্য রয়েছে। কয়েক দিন আগে বাংলাদেশ বুলবুল আঘাত হানার কারণে পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়েছে। আজ পত্রিকায় দেখলাম, খুব দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমাকে বলতে হয়, পেঁয়াজের দাম ২০০ টাকা। এটা কোনো দিন আমরা ভাবিনি। তিনি আরও বলেন, এবার ভারতে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়নি। তবে আমরা সাধারণত আমাদের পণ্যের মজুতের বিষয়ে আগেই মূল্যায়ন করি। আমাদের বার্ষিক চাহিদা কত? আমাদের আছে কত? আর যেটা কম সেটা আমরা তুরস্ক, মিসর, মিয়ানমারসহ আগেই আমদানি করি। টিসিবি এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমিও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলাম। এ জন্য এ ব্যাপারে আমি কিছুই বলতে চাই না। যারা পেঁয়াজ আমদানি করেন তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেন। আমাদের যখন কোনো একটি পণ্যের দাম বেড়ে যায় তখন আমরা ডিউটি কমিয়ে দেই। এ মুহূর্তে পেঁয়াজ আমদানির জন্য ডিউটি ফ্রি করে দিন। কারণ আমি যখন ১৯৯৬ পর্যন্ত শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ছিলাম তখন কয়েক ঘন্টার জন্য লবণের দাম বেড়েছিল। সে সময় অর্থমন্ত্রী ছিলেন শাহ এএমএস কিবরিয়া। তাকে আমি অনুরোধ করার পর তিনি ডিউটি শূন্য করে দিয়েছিলেন। এই নিউজটা পরিবেশনের সাথে সাথে একটা প্রভাব পড়ে বাজারে। বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেন, ছোটকালে আমরা যে রকম বিস্কুট দৌড় খেলতাম সেভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন পেঁয়াজ নিয়ে রসিকতা চলছে। আশা করি, সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
জোট সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির এমপি মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর পক্ষে শিল্পমন্ত্রী বলেছিলেন পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ কথা বলার পর দিনই পেঁয়াজের দাম হয়ে গেল দেড়শ টাকা। আবার আজকে পেঁয়াজের দাম ২০০ টাকা। পাশাপাশি আমি গুগলে সার্চ দিয়ে দেখলাম, ভারতের কৃষক কাঁদছেন। কারণ পেঁয়াজের মূল্য ৮ টাকা কেজি। আমার প্রশ্ন হলো, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে তো ভালো সম্পর্ক। সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চয়ই আমরা বা প্রধানমন্ত্রী যদি ব্যক্তিগতভাবে পদক্ষেপ নিতেন তাহলে পেঁয়াজের ক্রাইসিস থাকতো না।
আরেকটি বিষয় হলো, পেঁয়াজ বাজারে নেই -এ রকম তো না, আমরা দোকানে বা মার্কেটে গিয়ে প্রচুর পেঁয়াজ দেখতে পাই। এ জন্য আমার মনে হয় একটা অভিযান চালানো উচিত। কারণ, আমার মনে হয় এটা একটা ষড়যন্ত্র। সরকারের বদনাম করার এটা একটা পথ। এ জন্য আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীকে বলব, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিন।
তিনি আরও বলেন, পাঁচটা ভালো কাজ নষ্ট হয়ে যায় একটা খারাপ কাজের জন্য। আমাদের সরকার ফেনসিডিল ব্যবসায়ীদের ধরার পর, তারা বন্দুকযুদ্ধে মরে যায়। এভাবে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি যারা করল তারাও দুজন মরে যাক। এ রকম হলে একটা উদাহরণ হয়ে থাকবে।
এ বিষয়ে সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, বাজারে পেঁয়াজ রয়েছে। এর দাম এতো হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী অনুরোধ জানিয়েছিলেন পেঁয়াজ একটু কম ব্যবহার করার। সেটা অনেকেই শুনেছেন। কিন্তু গতকাল পেঁয়াজের দাম ছিল দেড়শ টাকা, আজকে তা হয়ে গেছে ২০০ টাকা। এটা সরকারের বিরুদ্ধে একটা কন্সপিরেসি বা ষড়যন্ত্র।
তিনি আরও বলেন, সরকার যেহেতু দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে লিপ্ত। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছে। এ সময়ে সব দুর্নীতিপরায়ণ ব্যবসায়ীরা এ কাজ করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নিশ্চয়ই আমরা সংসদ থেকে আহ্বান জানাব। কারণ দেশের জনগণকে এভাবে কষ্ট দেয়ার কোনো কারণ থাকতে পারে না। মুষ্টিমেয় কয়েকজন লোক রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যাবে -এটা কোনোভাবেই মানা যায় না। এ জন্য এ ব্যাপারে একটি ব্যবস্থা নেয়া উচিত। এখানে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন, অর্থমন্ত্রী আছেন নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে একটি পদক্ষেপ নেবেন। দেশবাসীকে আশ্বস্ত করবেন পেঁয়াজের দাম যেন অচিরেই কমে আসে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2017 dailyhabiganjshomoy.Com
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD