
জাবেদ তালুকদার : সিলেটে অবৈধভাবে আনা ৩৪৬ বস্তা ভারতীয় চিনি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নবীগঞ্জের এক যুবকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা করে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বুধবার পৃথক দুটি অভিযানে এসব জব্দ করা হয়। যেগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ লাখ ২১ হাজার ৪০০ টাকা।
পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে সিলেট-এয়ারপোর্ট সড়কে গোয়াইনঘাট উপজেলা থেকে সিলেটের উদ্দেশে একটি ট্রাক আসে। সেখানে দায়িত্বরত এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ওই ট্রাকে ১০৯ বস্তা ভারতীয় চিনি (৫ হাজার ২৩২ কেজি) উদ্ধার করেন। যেগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৪০ টাকা। এ সময় ওই ট্রাকের চালকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন গোয়াইনঘাট উপজেলার টেকনাগুলের লিলু মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া (২৫), শাহজাহান মিয়ার ছেলে হৃদয় আহমেদ (২১), হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের ইলন রবি দাসের ছেলে সাজু রবি দাস (২২)।
এদিকে বুধবার রাতে শাহপরান (রহ.) থানা এলাকার সুরমা গেট এলাকায় বটেশ্বর এলাকা থেকে একটি ট্রাক নগরের দিকে আসে। এর আগে খবর পেয়ে শাহপরান (রহ.) থানা-পুলিশ সেখানে টহল বসায়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গাড়ির চালক তাঁর গাড়িতে ভারতীয় চিনি আছে বলে জানান।
তখন পুলিশ ট্রাকটির চালক ও চালকের সহকারীকে ভারতীয় চিনি অবৈধভাবে পরিবহন করার কারণে গ্রেপ্তার করে। ট্রাকটিতে তল্লাশি করে ২৩৭ বস্তা ভারতীয় চিনি জব্দ করা হয়। যেগুলোর প্রতি বস্তায় ৪৯ কেজি করে ১১ হাজার ৬১৩ কেজি করে চিনি রয়েছে। যেগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫৬০ টাকা।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ট্রাকটির চালক দিনাজপুরের বীরগঞ্জের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মো. মাসুদ মিয়া (৪৪) এবং ট্রাকটির সহকারী মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে মো. মোকারম হোসেন (৩৪)।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, উদ্ধারকৃত চিনি এবং পরিবহনকাজে ব্যবহৃত ট্রাকগুলো পুলিশ জব্দ করেছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এয়ারপোর্ট ও শাহপরান (রহ.) থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা করে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।