উত্তম কুমার পাল হিমেল, মালয়েশিয়া থেকে ফিরে
মালয়েশিয়া ভ্রমণে গিয়ে গেনটিং হাইল্যান্ড না ঘোরা যেন অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়া। এ কারণে সিঙ্গাপুর থেকে সড়ক পথে কুয়ালালামপুর রওনা দিই আমরা- নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি উত্তম কুমার পাল হিমেলের নেতৃত্বে এবং ঢাকা প্রিমিয়ার কনসালটেন্ট ট্রাভেলসের অংশু বাবুর সার্বিক তত্ত্বাবধানে। সফরে আরও ছিলেন সলিল ও নিরুপম।
সিঙ্গাপুর থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে নয়নাভিরাম পামবাগান আর আরামদায়ক ডাবল ডেকার বাসযাত্রা শেষে কুয়ালালামপুর পৌঁছাই। সেখান থেকে বুকিত বিন তাংয়ের চায়না বাজার থেকে গাড়ি ভাড়া করে রওনা হই গেনটিং হাইল্যান্ডের পথে।
দু’পাশের সুউচ্চ, দৃষ্টিনন্দন ভবন আর আঁকা-বাঁকা পাহাড়ি পথ ধরে প্রায় দেড় ঘণ্টার মাথায় পৌঁছে যাই কাঙ্খিত গন্তব্যে। টিকিট সংগ্রহ করে ক্যাবল কারে উঠি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭ হাজার ফুট উঁচু গেনটিং হাইল্যান্ডে ক্যাবল কারে চড়া ছিল দারুণ এক অভিজ্ঞতা। পাহাড়ের বুক চিরে উঠে যাওয়া কার থেকে নিচের সবুজ বনভূমি দেখে মনে হয় যেন ভৌতিক কোনো সিনেমার দৃশ্যপট।
পুরো হাইল্যান্ড ঘুরে দেখতে ২-৩ ঘণ্টাই যথেষ্ট। এখানকার স্কাইওয়ে ক্যাবল কার, অসংখ্য হোটেল, শপিং মল, ক্যাসিনো, কিডস জোন, বৌদ্ধমূর্তি, মন্দির ও নান্দনিক কাঠামো সত্যিই চমকে দেওয়ার মতো। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল ‘ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড হোটেল’ ও থিম পার্ক এলাকা।
পর্যটকদের কেউ কেউ বলেন, ক্যাবল কারে যত উপরে উঠছিলাম, ততই ভয় ও রোমাঞ্চ একসাথে কাজ করছিল। আরেকজন বলেন, গেনটিং হাইল্যান্ডে না এলে জীবনের একটি অভিজ্ঞতা অপূর্ণ থেকে যেত।
কুয়ালালামপুর শহরের বুকিত বিনতাং এলাকায় অবস্থিত হোটেলগুলোর চমৎকার সুযোগ-সুবিধা, টুইন টাওয়ার, কে এল টাওয়ার, চায়না মার্কেট ও মাইডিন মার্কেট ঘোরার অভিজ্ঞতাও ছিল দারুণ।
এছাড়া বাতুক্যাভ মন্দিরে থাকা বিশাল বিষ্ণু, হনুমান ও গনেশ মূর্তিও ছিল নজরকাড়া। সেখানে কর্মরত নরসিংদীর রিফাত জানায়, মাসে ২১০০ রিঙ্গিত আয় করে পরিবারে প্রতি মাসে প্রায় ৪০ হাজার টাকা পাঠাতে পারে, যা তার জন্য অনেক স্বস্তির।
মাত্র ১৯৬৫ সালে স্বাধীনতা পাওয়া মালয়েশিয়া সততা, পরিকল্পনা ও পরিশ্রমে যেভাবে উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে, তা সরেজমিনে না দেখলে বোঝা যাবে না।