রামকৃষ্ণ তালুকদার, আজমিরীগঞ্জ : আজমিরীগঞ্জে ডায়রিয়ার প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। চলতি এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই উপজেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। গত বছরের তুলনায় এবছর আক্রান্তের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন দ্বিগুণ হারে বাড়ছে ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা। রোগীদের মধ্যে দিনমজুর, স্কুল শিক্ষার্থী ও শিশুর সংখ্যা বেশি। প্রচণ্ড গরমে জনজীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। এই ভ্যাপসা গরমে দূষিত পানি পান ও নষ্ট খাবার খাওয়ার কারণে বাড়ছে রোগের প্রকোপ।
রোগীদের অনেকে শুধু ডায়রিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকছেন না; তাদের মধ্যে অনেকে আমাশয় ও টাইফয়েড জ্বরেও আক্রান্ত হচ্ছেন। অথচ প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে সংকট।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে স্যালাইন ও প্যারাসিটামল ছাড়া অন্যান্য প্রয়োজনীয় ওষুধ বাহির থেকে উচ্চমূল্যে কিনে আনতে হচ্ছে। সেইসাথে কিছু অসাধু দালালের হয়রানিতে পড়ছেন রোগীরা।
হাসপাতালে কর্মরত একজন নার্স জানান, “স্টকে কোনো জিনিস নেই, রোগীদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।”
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ ইকবাল হোসেন দৈনিক হবিগঞ্জ সময়-কে জানান, “ডায়রিয়ার স্যালাইনের সংকট জেলাজুড়েই দেখা দিয়েছে। আমরা জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি সমন্বয় করছি। হবিগঞ্জ সদর থেকে স্যালাইন সরবরাহ পেলেই আবার সেবা সচল করা সম্ভব হবে।”
এদিকে হাসপাতালে কর্মরত ডাঃ জুলকার নাইন-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো- গরমে খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং খোলা জায়গায় বিক্রি হওয়া শরবত ও পানীয় পান করা।
তাঁরা বলছেন, শিশু ও বড়দের বিশুদ্ধ পানি পান, বাসি খাবার বর্জন, ও খাওয়ার আগে হাত ধোয়ার বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। ডায়রিয়া হলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সাধারণত খাবার স্যালাইন খেলেই রোগ সেরে যায়। তবে জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, “বেশি করে তরল খাবার যেমন ভাতের মাড়, ডাবের পানি, চিড়ার পানি ইত্যাদি খাওয়াতে হবে। নিরাপদ টিউবওয়েলের পানি পান করতে হবে। অন্যথায় পুকুর বা নদীর পানি চুলায় ২০ মিনিট ফুটিয়ে তারপর পান করা উচিত।”