স্টাফ রিপোর্টার : চা মৌসুম শুরুর দু’মাস পর অবশেষে উৎপাদনে ফিরেছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ২৪টি চা বাগান। দীর্ঘ অনাবৃষ্টির কারণে এ বছর ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া কথা থাকলেও মৌসুমের শুরুতে পাতা উত্তোলন সম্ভব হয়নি। তবে চলতি সপ্তাহে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির পর প্রতিটি বাগানে দেখা দিয়েছে সবুজ কচি পাতা ও কুঁড়ি। শুরু হয়েছে পাতা উত্তোলন ও চা উৎপাদনের কাজ।
চলতি মৌসুমে লস্করপুর ভ্যালির এসব বাগানে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৩০ লাখ কেজি। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই টানা খরায় প্রায় ৪০ ভাগ চারাগাছ ও ১০ ভাগ পরিণত গাছ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
ন্যাশনাল টি কোম্পানির চন্ডিছড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক সেলিমুর রহমান বলেন, “বৃষ্টির দেখা পেয়ে শ্রমিকদের মাঝে আবারও কাজের উৎসাহ ফিরেছে। নির্ধারিত কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে শঙ্কা থাকলেও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। টানা বৃষ্টি হলে ঘাটতি কিছুটা পূরণ সম্ভব হবে।”
লালচান্দ চা বাগানের শ্রমিক দিপালি ভৌমিজ জানান, “ফেব্রুয়ারি থেকেই সাধারণত পাতা তোলা শুরু করি। এবার খরায় সব পিছিয়ে যায়। এখন গাছে কচি পাতা এসেছে। আমরা আবার কাজে নেমেছি।”
বাগান কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় শ্রমিকদের ভাষ্য, দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস পর বৃষ্টির ছোঁয়া পেয়েছে চা বাগানগুলো। বিবর্ণ রূপ মুছে গিয়ে চারদিকে ছড়িয়েছে সবুজের সমারোহ। আরও কিছুদিন বৃষ্টি হলে গাছগুলোর বৃদ্ধি এবং উৎপাদন দুই-ই বাড়বে বলে তারা আশাবাদী।
উল্লেখ্য, লস্করপুর ভ্যালির হাতে গোনা কিছু বাগানে কৃত্রিম সেচের মাধ্যমে মার্চ থেকে সীমিত আকারে উৎপাদন শুরু হয়েছিল। তবে চলতি এপ্রিলেই পূর্ণ উৎপাদনে ফিরেছে সবগুলো বাগান।