জাবেদ তালুকদার : হবিগঞ্জ জেলায় চলতি বোরো মৌসুমে সরকারিভাবে ৩২ হাজার ৬৩৩ মেট্রিক টন ধান ও চাল সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ৮ হাজার ২৫৭ টন ধান, ১৯ হাজার ৭৯৭ টন সেদ্ধ চাল এবং ৪ হাজার ৮৭৯ টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার (৩ মে) দুপুরে বানিয়াচং উপজেলার হাওরে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাসুদুল হাসান। উদ্বোধনী দিনে ছয়জন কৃষকের কাছ থেকে মোট ১৮ টন ধান সংগ্রহ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা বেগম সাথী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক এসএম সাইফুল ইসলাম, হবিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আকতারুজ্জামান, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক চাই থোয়াই প্রু মার্মা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকরা।
খাদ্য বিভাগ জানায়, জেলার ১৪টি অটো রাইস মিলের মাধ্যমে চাল সংগ্রহ করা হবে। আর ধান সংগ্রহের জন্য কৃষকদের নির্বাচন করা হচ্ছে অনলাইনে লটারির মাধ্যমে। ধান প্রতি কেজি ৩৬ টাকা, সেদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং আতপ চাল ৪৮ টাকা দরে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে হবিগঞ্জ জেলায় মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৩৬ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাত, ৭২ হাজার ৮০১ হেক্টর জমিতে উফশী জাত এবং ৫০ হেক্টরে স্থানীয় জাতের ধান রোপণ করা হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে।
ফসল উৎপাদনের তথ্য অনুযায়ী, হাইব্রিড জাত থেকে গড়ে প্রতি হেক্টরে ৪.৬৮ টন, উফশী জাত থেকে ৬.৯৩ টন এবং স্থানীয় জাত থেকে ১.৯ টন হারে চাল উৎপাদিত হচ্ছে। সে হিসেবে জেলায় এবার বোরো মৌসুমে প্রায় ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫১৮ টন ধান এবং ৫ লাখ ২৪ হাজার ৩৪৫ টন চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এ কার্যক্রম চলবে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত এবং পর্যায়ক্রমে জেলার প্রতিটি উপজেলায় ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।