জুয়েল চৌধুরী : চিকিৎসক সংকট, ওষুধের অভাব, লিফট বিকল, এসি ক্যাবিনে বিদ্যুৎবিহীন পরিবেশসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল। জেলার একমাত্র প্রধান এই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে এলেও, পর্যাপ্ত সেবা না পেয়ে তাদের অনেককেই ফিরে যেতে হচ্ছে হতাশ হয়ে। ফলে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে বিরাজ করছে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা।
সরকারি ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালে রোগীর তুলনায় চিকিৎসক, ওষুধ ও অন্যান্য সেবার অপ্রতুলতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। হাসপাতালের দুইটি লিফটের মধ্যে একটি দীর্ঘ এক মাস ধরে বিকল হয়ে আছে। এসি ক্যাবিনে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। এমন জোড়াতালি দিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা।
হাসপাতালে মোট ৫৭টি চিকিৎসক ও কর্মকর্তার পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২৭ জন। তবে প্রকৃতপক্ষে এই সংখ্যাটিও কার্যত আরও কম, কারণ কয়েকজন ছুটিতে আছেন এবং মেহেদী হাসান নামে একজন চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
সিনিয়র কনসালট্যান্ট পদে একাধিক শূন্যতা দেখা যাচ্ছে। গাইনি, ইএনটি, কার্ডিওলজি, ইউরোলজি, নেফরোলজি, সার্জারি, অর্থো সার্জারি, শিশু, চর্ম ও যৌন, চক্ষু, রেডিওলজিস্ট, প্যাথলজি, মেডিসিন, মানসিক ও গ্যাস্ট্রোলজিসহ নানা বিভাগে অন্তত ১৫টির বেশি পদ ফাঁকা রয়েছে। অ্যানেসথেটিস্ট পদে ৪টির মধ্যে ১টি খালি, মেডিকেল অফিসার প্যাথলজিস্ট পদে ২টি, রেজিস্ট্রার ১টি, রক্ত বিভাগের মেডিকেল অফিসার ১টি ও সাধারণ মেডিকেল অফিসার পদের মধ্যে ৫টি খালি।
এদিকে সরকারি ওষুধ না থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে নিতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেন্দ্রীয়ভাবে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে এবং তা সহসা কাটবে না বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগী নুছরাত আক্তারের অভিভাবক জানান, “প্রতিদিন একজন চিকিৎসক একবার এসে দেখে যান। কিন্তু পরে চিকিৎসকের প্রয়োজন হলে কাউকে আর পাওয়া যায় না।” এ কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিক বা অন্যত্র চিকিৎসা নিতে চলে যাচ্ছেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আমিনুল হক সরকার বলেন, “জেলা সদর হাসপাতাল হওয়ায় রোগীর চাপ অনেক বেশি। আমাদের সীমিত জনবল ও সম্পদ দিয়েই আমরা আন্তরিকভাবে যতটুকু সম্ভব সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”
ওষুধ সংকট প্রসঙ্গে তিনি জানান, “কেন্দ্রীয়ভাবে ওষুধ না আসায় রোগীদের মধ্যে সরবরাহ করা যাচ্ছে না।”স্থানীয়রা অবিলম্বে চিকিৎসক নিয়োগ, ওষুধ সরবরাহ ও অবকাঠামোগত সংস্কার দাবি করছেন।