
জাবেদ তালুকদার : হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার সংযোগস্থল পানিউমদা-শমসেরগঞ্জ সড়ক এখন জনদুর্ভোগের নাম। মাত্র ৪.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কে চলাচল এখন যেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পথচলা। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, আর তাতে আহত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করলেও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না থাকায় এটি এখন কার্যত অনুপযোগী হয়ে পড়েছে যানবাহন চলাচলের জন্য। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী, দিনমজুর, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ শুধু সড়কের মাপজোক করেই দায় শেষ করছে। বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো সংস্কার কাজ শুরু হয়নি। ফলে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা দরাজ মিয়া বলেন, “এই রাস্তা এখন মৃত্যুর ফাঁদ। কিছুদিন আগে একটি সিএনজি উল্টে আমি ও আরও দুইজন গুরুতর আহত হই।”
আশরাফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রায় প্রতি মাসেই দেখি মাপজোক হচ্ছে, কিন্তু সংস্কার হচ্ছে না। রাস্তায় চলাচল করা মানে প্রতিদিন একটা যুদ্ধ।”
বয়স্ক জুয়েল মিয়া বলেন, “সিএনজিতে করে বাজারে গেলে শরীরে ব্যথা লেগে যায়, তাই বাধ্য হয়ে হেঁটেই যাই।”
পিকআপ চালক কুরবান আলী বলেন, “এই রাস্তায় মালামাল নিয়ে যাওয়া কষ্টকর। গাড়ির যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যায়, মাসে বহু টাকা মেরামতে খরচ হয়।”
সিএনজি চালক কদ্দুছ মিয়া জানান, “গর্তে গাড়ি পড়ায় যাত্রী সংখ্যা কমে গেছে। আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় সংসার চালাতেই কষ্ট হচ্ছে।”
স্থানীয়দের মতে, পানিউমদা-শমসেরগঞ্জ সড়কের গুরুত্ব শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, এটি দুই জেলার মানুষের সংযোগের প্রধান মাধ্যম। অথচ এমন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল দশা রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনারই একটি দৃষ্টান্ত।
বর্ষা মৌসুম আসন্ন, আর এ সময় সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হবে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তারা বলছেন, এখনই যদি সংস্কার না হয়, তাহলে এটি বড় কোনো দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মো. জোনায়েদ আলম জানান, “পানিউমদা-শমসেরগঞ্জ সড়ক সংস্কারের জন্য প্রাক্কলন পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন এলেই কাজ শুরু হবে।”
জনগণের প্রত্যাশা- আর বিলম্ব নয়, অবিলম্বে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হোক। তা না হলে শুধু জীবনের নিরাপত্তাই নয়, জীবিকার পথও আরও সংকুচিত হয়ে পড়বে।