মোঃ নজরুল ইসলাম তালুকদার, বানিয়াচং : বানিয়াচংয়ে ফুটবল খেলার সময় সাইড রেফারীর উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় শহীদুল ইসলামকে প্রধান আসামী করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
গত বৃহষ্পতিবার (১৫ মে) বিকেলে বানিয়াচংয়ের জুয়েল মাঠে ‘তারুণ্য ক্লাব বনাম জুয়েল ক্লাব’-এর মধ্যকার সেমি ফাইনাল খেলা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগকারী সফিক আলী জানান, খেলার ১৯তম মিনিটে একটি গোলকে কেন্দ্র করে মাঠে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সাইড রেফারী সফিক আলী গোলটির বৈধতা দিলে যুবলীগ নেতা বুলবুল ও ছাত্রদল নেতা ইজাজুল মাঝ মাঠ থেকে দৌড়ে এসে তাকে মারধর করার চেষ্টা করেন। এরই মধ্যে ছাত্রদল নেতা শহীদুল ইসলাম দ্রুত গতিতে এসে সফিক আলীকে ফ্লাইং কিক মারেন। ভিডিও ফুটেজে ঘটনার দৃশ্য স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।
ঘটনার পরপরই খেলা বন্ধ হয়ে যায় এবং মাঠে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় ওঠে।
এ বিষয়ে বানিয়াচং উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মোবাশ্বির আহমদ মজনু বলেন, শহীদুল ছাত্রদলের কেউ নন। তিনি নিজের স্বার্থে সংগঠনের নাম ব্যবহার করছেন।
খেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি ও বানিয়াচং থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মো. জাহির হোসাইন বলেন, মাঠে এমন ঘটনা অনভিপ্রেত। কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে স্থানীয়দের সাথে বসা হবে।
হবিগঞ্জের সিনিয়র ফুটবল রেফারী আব্দুল মতিন বলেন, ঐতিহ্যবাহী বানিয়াচংয়ে এমন ঘটনা দুঃখজনক। পুলিশের কাছে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
এদিকে জেলা খেলোয়ার কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল হান্নান এবং স্থানীয় সাংবাদিক এম এ রাজা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
হবিগঞ্জ ফুটবল রেফারী এসোসিয়েশনের সভাপতি ও জেলা পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমান বলেন, ঘটনার সময় পুলিশের টিআরসি পদে মৌখিক পরীক্ষা চলছিলো। আমি রাতে বিষয়টি জানতে পারি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক ঘটনা। সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। আমি বানিয়াচং থানার ওসিকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি।
স্থানীয় ফুটবল প্রেমীদের মতে, মাঠে সন্ত্রাসী হামলার এই ঘটনাটি হবিগঞ্জের ক্রীড়া অঙ্গনে কালো দাগ হয়ে থাকবে।