জাবেদ তালুকদার : হবিগঞ্জ জেলায় পরিবেশবিধি না মেনেই চলছে শতাধিক ইটভাটা। জেলার ১১৯টি ইটভাটার মধ্যে ২৪টির নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন। বাকি ভাটাগুলোর অনেকগুলিও নিয়মনীতি উপেক্ষা করে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। এতে জেলার পরিবেশ, কৃষিজমি ও জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
জেলা সদর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চল-সব জায়গায়ই ছড়িয়ে রয়েছে ইটভাটা। হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের মাত্র পাঁচ কিলোমিটার পথজুড়ে দাঁড়িয়ে আছে অন্তত ২০টি ইটভাটা। দূর থেকে দেখা যায় ধোঁয়ার পরত, চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে ধুলার ঝড়। এতে যান চলাচলে যেমন ব্যাঘাত ঘটছে, তেমনি পরিবেশও হচ্ছে দূষিত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া ও ধুলাবালিতে গাছপালা শুকিয়ে যাচ্ছে, মৌসুমি ফলের উৎপাদন কমে গেছে, ফসলি জমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে।
কৃষকরা জানান, জমিতে এখন আর আগের মতো ফলন হয় না। ফসল, শাকসবজি এমনকি ফলের গাছও আগেভাগেই ঝরে পড়ে।
শুধু ধোঁয়া নয়, জমির উর্বর টপসয়েলও কেটে নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। অনেক কৃষক অল্প টাকার লোভে জমির মাটি বিক্রি করে এখন পস্তাচ্ছেন। স্থানীয় রফিক মিয়া বলেন, “এখন জমি চাষ করে কিছু হয় না। আগে যা হতো, এখন অর্ধেকও হয় না।”
এছাড়া আবিদ আতিয়া ব্রিকস, কে এম ব্রিকস, ভূঁইয়া ব্রাদার্স, লাখাই ব্রিকস, সিএমসি ব্রিকস, তিতাস ব্রিকসসহ একাধিক ভাটার বিরুদ্ধে ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, “এই জেলায় পরিবেশ বিধির কোনো তোয়াক্কা নেই। ধূলাবালি, বিষাক্ত গ্যাস ও মাটির অপচয় মিলিয়ে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলেই তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়।”
হবিগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের নবনিযুক্ত উপপরিচালক ড. মো. ইউসুফ আলী বলেন, “আমি সদ্য দায়িত্ব নিয়েছি। জেলার ইটভাটাগুলো সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছি।”
জেলা প্রশাসক ড. ফরিদুর রহমান বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে চারটি অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ করেছি। পরিবেশবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চলছে।”