জুয়েল চৌধুরী : চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশি ইউনিয়নের কালেঙ্গা এলাকায় টিলা কেটে সাবাড় করে দেয়া হচ্ছে। এক্সকেভেটর ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে প্রতিদিন মাটি কেটে পাচার করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। এতে করে পরিবেশের ভারসাম্য যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন আশপাশের বসবাসকারী সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী জসিম, জাহাঙ্গীর ও চৌকিদার ইউনুছের নেতৃত্বে এই টিলা কাটা ও মাটি পাচারের কাজ চালানো হচ্ছে। তারা দিনের পর দিন নির্বিঘ্নে এই কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। কারণ, বাধা দিলে হুমকি-ধামকি এমনকি হয়রানির মুখেও পড়তে হচ্ছে। অভিযুক্তরা এসিল্যান্ডের (সহকারী কমিশনার, ভূমি) নাম ব্যবহার করে নিজেদের কাজ?য বলেও প্রচার করছে বলে জানা যায়।
টিলা কেটে মাটি নিয়ে যাওয়ার কারণে গ্রামীণ চলাচলের রাস্তা নষ্ট হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট হয়েছে গভীর গর্ত ও খানাখন্দ। এতে ছোট-বড় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, টিলা কাটার ফলে অনেক বসতঘর এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। হঠাৎ ধস নেমে প্রাণহানির শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, “পাহাড় বা টিলা থেকে মাটি কাটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ বিষয়ে কাউকে কোনো অনুমতি দেয়া হয় না। কেউ যদি আইন লঙ্ঘন করে মাটি কাটে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবী, কালেঙ্গার টিলা রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও কঠোর আইনগত পদক্ষেপ জরুরি। নাহলে অচিরেই চুনারুঘাটের এই প্রাকৃতিক সম্পদ হারিয়ে যাবে, আর এর সঙ্গে হারিয়ে যাবে নিরাপদ বসবাসের পরিবেশও।