স্টাফ রিপোর্টার : নবীগঞ্জে এক মৃত ব্যক্তিকে জীবিত সাজিয়ে ভূয়া ওয়ারিশান সনদ ও দলিল বানিয়ে নামজারি করে জমি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়নের রানীগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মৌলানা হাবিবুর রহমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে উপজেলার ১২নং কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের মৃত গণি মিয়ার পুত্র মইনুল হক, মৃত রুহুল আমিনের স্ত্রী জহুরা বিবি, জালাল মিয়ার পুত্র ফতেহ আলম, মৃত রুহুল আমিনের পুত্র তাজুল ইসলাম, তার সহোদর জহিরুল ইসলাম, জহুর আলী, মোবারক আলী ও ৭নং করগাঁও ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের যোগল কিশোর দাসের পুত্র দলিল লেখক ভানুলাল দাস এবং ১২নং কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়নের ৭,৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য রাহেলা বেগমকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৩ মার্চ নবীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দলিল নং ১৯০৫/২২ রেজিস্ট্রি করা হয়। এতে মৃত প্রশান্ত চক্রবর্তীকে জীবিত দেখিয়ে এবং তাকে মান্দারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা সাজিয়ে ভূয়া ওয়ারিশান সনদ তৈরি করা হয়। এরপর সেই দলিলে জহুরা বিবিকে জমির গ্রহীতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরে গত বছরের ২১ আগস্ট নবীগঞ্জ উপজেলা (ভূমি) অফিসে উক্ত ভূয়া সনদ ও দলিল ব্যবহার করে নামজারি করা হয়। নামজরি মামলা নং- ১২৫৬/২০২৪-২৫।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চৌকি গ্রামের প্রশান্ত চক্রবর্তী প্রায় ৬-৭ বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর পিতার নাম ফণিভূষণ চক্রবর্তী, এবং দাদার নাম প্রফুল্ল কুমার চক্রবর্তী হলেও দলিলে ব্যবহৃত ওয়ারশিান সনদে ফনিভূষণ চক্রবর্তীকে মৃত নরেশ চক্রবর্তীর পুত্র এবং প্রশান্ত চক্রবর্তীকে তার নাতী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দলিলে রামপুর গ্রামের জালাল মিয়ার পুত্র ফতেহ আলম সাক্ষী ও শনাক্তকারী এবং মৃত জয়নাল আবেদীনের পুত্র বাবুল মিয়া। তবে বাবুল মিয়া কোর্টে এফিডেভিট দিয়ে জানান, তিনি ওই দলিলে কখনো স্বাক্ষর করেননি।
গত বছরের ১৪ আগস্ট জাল ওয়ারিশান সনদটি ইস্যু করেন ইউপি সদস্য রাহেলা বেগম এবং তাতে প্রতিস্বাক্ষর করেন চেয়ারম্যান। সেই সনদ ব্যবহার করে নামজারিও করা হয় (নামজারি স্বারক নং: ৫৩৭, ক্রমিক: ১৩৭৯)। এছাড়া, দলিল লেখক হিসেবে কাজ করেন ভানুলাল দাস।
ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান দাবি করেন, নবীগঞ্জ থানার গিয়াসপুর মৌজার খতিয়ান নং ১৪৯ ও ২২৮, দাগ নং ৩০৯ ও ৩০৮ এর মোট ৩৮ শতক জমি তাঁরা বৈধভাবে মালিক ও দখলকার। কিন্তু অভিযুক্তরা ঐ জমির ওপর দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। কিছুদিন আগে রাতের আঁধারে ট্রাকযোগে মাটি ভরাট করতে গেলে ভুক্তভোগীরা বাধা দেন। তখন অভিযুক্তরা জানান, তারা জমিটি কিনেছেন।
এছাড়াও অভিযোগে বলা হয়, এই চক্র অতীতেও বিভিন্ন জনের জমি ভূয়া দলিল তৈরি করে আত্মসাৎ করেছে। এবারের ঘটনায় মৃত ব্যক্তিকে জীবিত সাজিয়ে এবং ভিন্ন ইউনিয়নের ঠিকানা ব্যবহার করে প্রতারণা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউএনও বরাবর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ভুক্তভোগী মৌলানা হাবিবুর রহমান।