
বন্যা আতঙ্কে নিম্নাঞ্চলের মানুষ
জুয়েল চৌধুরী : খোয়াই নদীসহ হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জেলার নিচু এলাকাগুলোতে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে খোয়াই নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় নদীপাড়ের মানুষ আতঙ্কে রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর পাড়ঘেঁষা এলাকাগুলোতে বাসিন্দারা নিজেরা বাঁধ পাহারা দিচ্ছেন। নদীর বিভিন্ন অংশে কাঁচা বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পৈইল ইউনিয়নের পূর্ব ভাদৈ এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধে ফের ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই বাঁধে এমন ধস নামায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরও একই এলাকায় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও কার্যকর কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ নেয়নি। বরং সাময়িকভাবে কিছু জিও ব্যাগ ফেলে দায় শেষ করেছে।
পূর্ব ভাদৈ গ্রামের বাসিন্দা আবদুল খালেক বলেন, “গতবারও আমরা এমন দুর্ভোগে পড়েছিলাম। এবারও যদি সময়মতো বাঁধ মেরামত না করা হয়, তাহলে আমাদের জমি-ঘর সব চলে যাবে পানির নিচে।”
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। গোপায়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান অভিযোগ করেন, “বাঁধ মেরামতের কাজে যারা নিয়োজিত, তারা একেবারেই অনভিজ্ঞ। কিছু রাজনৈতিক নেতা ঠিকাদারদের দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে কাজ আদায় করিয়েছেন, যার ফলে এখন এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছে।”
খোয়াই নদীর পানি এখনো বিপদসীমার নিচে থাকলেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় তা বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। ইতোমধ্যে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কলিমনগর, আলাপুর, পূর্ব লেঞ্জাপাড়া, পুরান বাজার, চুনারুঘাট উপজেলার করিমপুর, চানভাঙাসহ বিভিন্ন এলাকায় নদীর দু’পাড়ের মানুষ বাঁধে স্বেচ্ছাশ্রমে পাহারা দিচ্ছেন।
স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের হবিগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম হাসনাত মাহমুদ জানান, “বাঁধটি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ একটি বড় নৌকা ভৈরব থেকে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে নদীতে পানি কম থাকায় নৌকাটি এখনও পৌঁছায়নি। আশা করছি, শনিবার বা রোববার সকালের মধ্যেই পৌঁছাবে এবং মেরামত কাজ দ্রুত শুরু করা যাবে।”
তিনি আরও জানান, আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে ইতিমধ্যে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে, যাতে ভাঙন আরও না বাড়ে। তবে স্থায়ী সমাধানে সময় লাগবে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে তাদের বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও জীবিকা রক্ষা করা হোক—না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের দুর্যোগের মুখে পড়বে পুরো এলাকা।