
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধের হুমকি
স্টাফ রিপোর্টার : হবিগঞ্জ-লাখাই-নাসিরনগর-সড়াইল আঞ্চলিক মহাসড়কটি দেশের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হিসেবে বিবেচিত। এই সড়কটি হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জ জেলার একাধিক উপজেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যাতায়াতকে সহজতর করেছে। প্রতিদিন অর্ধলক্ষাধিক যানবাহন এবং কয়েক লাখ মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। ৪ জেলার মধ্যে আর্থ-সামাজিক, কৃষি ও শিল্প সংশ্লিষ্ট যোগাযোগে এ সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এ মহাসড়কের উন্নয়ন হলে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের সঙ্গে বিকল্প ও কার্যকর সংযোগ গড়ে ওঠবে। এতে আঞ্চলিক অর্থনীতি গতিশীল হবে, পণ্য পরিবহন সহজ হবে, যাত্রা ব্যয় ও সময় সাশ্রয় হবে এবং সড়ক নিরাপত্তাও বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এ সড়কের নাসিরনগর-সড়াইল অংশে উন্নয়ন কাজ শুরু হলেও হবিগঞ্জ-লাখাই অংশটিকে প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। অথচ এই প্রকল্পটি হবিগঞ্জ সড়ক বিভাগের অধীনেই রয়েছে। এই খবরে লাখাই উপজেলাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এ প্রেক্ষিতে গতকাল রবিবার (১ জুন) দুপুরে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে লাখাই উপজেলাবাসীর পক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রকল্পের হবিগঞ্জ-লাখাই অংশের কাজ দ্রুত শুরু করার জোর দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন লাখাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামছুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “সব প্রক্রিয়া শেষ করার পর এখন এসে প্রকল্প থেকে হবিগঞ্জ-লাখাই অংশটি বাদ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। যদি এই অংশ বাদ দেওয়া হয়, তবে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করা হবে।”
এডভোকেট শামছুল ইসলাম আরও বলেন, “বারবার হবিগঞ্জবাসীর সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হচ্ছে। একের পর এক প্রকল্প বাতিল করা হচ্ছে, যা একটি অদৃশ্য ষড়যন্ত্র বলে আমরা মনে করছি। তবে যেকোন ষড়যন্ত্র আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবো।”
তিনি আরও জানান, “এই সড়কটি উন্নয়ন হলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে সিলেট বিভাগের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার কমবে। এতে যাতায়াত খরচ হ্রাস পাবে। এ সড়কের পাশে বিভিন্ন শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, বেকারত্ব দূর হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন লাখাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ তালুকদার আব্দাল, সিনিয়র সহসভাপতি শেখ ফরিদ মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম গোলাপ, সাংগঠনিক সম্পাদক শামছুদ্দিন আহমেদ, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আয়াতুল ইসলাম, এডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম, যুবদলের আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম মালু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মশিউর রহমান চৌধুরী সাচ্চু, সদস্য সচিব মিয়া মোঃ লায়েছ প্রমুখ।
পরে তারা জেলা প্রশাসকের নিকট একটি স্মারকলিপিও প্রদান করেন।