
মোঃ সাগর আহমেদ, নবীগঞ্জ : পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে নবীগঞ্জে কোরবানির পশুর হাটে ক্রমেই বাড়ছে ভিড়। পৌর এলাকার সালামতপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা অস্থায়ী হাটগুলোও ধীরে ধীরে সরগরম হয়ে উঠছে। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার আশায় ব্যবসায়ীরা হাটে পশু তুলেছেন বিপুল সংখ্যক।
নবীগঞ্জ পৌর হাটে সপ্তাহে দু’দিন মঙ্গলবার ও শুক্রবার বসে পশুর বাজার। গত মঙ্গলবার হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর পশুর দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় বিক্রি-বাট্টা কিছুটা কম বলেই জানান স্থানীয়রা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, হাটজুড়ে গরু, ছাগলসহ কোরবানির পশুতে ঠাসা। তবে মূল্যবৃদ্ধির কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ পড়েছেন বিপাকে। অনেকেই কাঙ্খিত পশুটি না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন, আবার কেউ কেউ শেষ মুহূর্তের বাজারের অপেক্ষায় রয়েছেন।
ঘোলডুবা গ্রামের ক্রেতা আলমগীর মিয়া জানান, “বাজারে দাম অনেক বেশি। এখনই কেনার সাহস পাচ্ছি না। হয়তো ঈদের আগের দিনগুলোতে কিছুটা কমবে।”
অন্যদিকে পশ্চিম জাহিদপুর গ্রামের বিক্রেতা কাদির মিয়া বলেন, “আমরা একটা গরুর দাম বলছি ৯০ হাজার টাকা, অথচ ক্রেতারা ৫০-৬০ হাজারের বেশি দিচ্ছেন না। তাই অনেক গরু ফেরত নিতে হচ্ছে। তবে আশা করি শেষ সময়ে ভালো দাম পাব।”
পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় হাটে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। অনেকেই ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের পশু দেখাচ্ছেন, কেউ বা গরুর ছবি তুলে পাঠাচ্ছেন হোয়াটসঅ্যাপে।
নবীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাইফুর রহমান জানান, “উপজেলায় কোরবানির জন্য পশুর চাহিদা প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ হলেও স্থানীয়ভাবে লালন-পালনকৃত পশু রয়েছে ১৬ হাজার ৫০০টিরও বেশি। ফলে কোনো সংকট নেই। এছাড়া, অসুস্থ পশু যাতে হাটে না আসে তা নিশ্চিতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।”
পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে, যাতে মানুষ নিরাপদে পশু কিনতে পারে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, ঈদের আগের দিনগুলোতে হাটগুলো আরও জমজমাট হবে এবং রাত ১১টা-১২টা পর্যন্ত চলবে বেচাকেনা।