হবিগঞ্জ শহরের ঈদগাহ পুকুর থেকে দেশখ্যাত হাফেজ আহমদ মনসুর তাহমিদ (১৭) এর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (২২ জুন) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত তাহমিদ ঈদগাহ এলাকার সফিক মিয়ার ছেলে। তিনি দারুল ইরশাদ মাদরাসা থেকে হিফজ সম্পন্ন করে জামাত লাইনে সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিলেন। তার কণ্ঠে কোরআন তেলাওয়াত ছিল মধুর, আর জাতীয় পর্যায়ের সেরা হাফেজদের তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাহমিদ বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পার্শ্ববর্তী ঈদগাহ পুকুরে তার মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ রাত আড়াইটার দিকে লাশ উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহাবুদ্দিন শাহীন জানান, “২২ জুন (রবিবার) রাতে কোনো এক সময় বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে গোসল করতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত সে পানিতে ডুবে যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
এদিকে, নিহত তাহমিদের সহপাঠী ও শিক্ষকরা দাবি করছেন- তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় দারুল ইরশাদ মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকরা সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা জাবের আল হুদা চৌধুরী বলেন, “তাহমিদ ছিল অত্যন্ত ভদ্র ও মেধাবী ছাত্র। সে কোরআন তেলাওয়াতে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পেয়েছিল। এমন ছেলের মৃত্যু সহজভাবে মেনে নেওয়া যায় না।”