আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক শরীফ উদ্দিন রোড এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। এতে যাত্রী ও যানবাহনকে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আজমিরীগঞ্জ উপজেলার লাল মিয়া বাজার থেকে শুরু করে শরীফ উদ্দিন সড়কের অন্তত ২১ কিলোমিটার অংশজুড়ে পিচঢালাই উঠে গিয়ে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সিএনজি অটোরিকশা, পণ্যবাহী ট্রাক, পিকআপ ভ্যান ও মোটরসাইকেল চালকদের প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সড়কটি বর্তমানে এতটাই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে যে, কোথাও কোনো সতর্কীকরণ সাইনবোর্ডও দেখা যায়নি।
আজমিরীগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা জুয়েল রানা জানান, “আমার বড় ভাই অসুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্সে করে সিলেট নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু সড়কের দুরবস্থার কারণে পৌঁছানোর আগেই তার অবস্থা মুমূর্ষু হয়ে পড়ে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক দিয়ে রোগী বহন করাই কষ্টকর।”
সিএনজি চালক শামিম ও রাজন মিয়া বলেন, “ভাঙা রাস্তায় প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এখনই মেরামত না করলে এই সড়কে গাড়ি চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে।”
পিকআপ চালক মিজান মিয়া বলেন, “প্রতিদিন এই রাস্তায় মালামাল পরিবহন করি। কিন্তু রাস্তাটি ভালো না থাকায় গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, ভোগান্তি বাড়ছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুদিন ধরে সড়কটির এমন করুণ অবস্থা হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। মাঝে মধ্যে কিছু অংশে কাজ হলেও তা টেকসই হয় না।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে চাইলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, “বিগত সরকারের শেষ সময়ে এই সড়ক সংস্কারের দরপত্র আহ্বান করা হয়। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতায় তখন কোন ঠিকাদার দরপত্র দাখিল করেন নি। চলতি মাসে পূনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্প অনুমোদন এবং বাস্তবায়নের অপেক্ষায় না থেকে জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো অস্থায়ীভাবে হলেও মেরামত করা হোক, যাতে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।