নবীগঞ্জ শহরের হাসপাতাল রোড, জুয়েল ম্যানশনের সামন, শেরপুর রোড, ওসমানী রোডসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও বাজার এলাকাগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি, হর্নের শব্দ আর মানুষের দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শহরের সড়কগুলো সরু, তার উপর ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকান। রাস্তায় যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করিয়ে মালামাল লোড-আনলোড করা হয় দিনের বেলায়। এ ছাড়া শহরে ট্রাক, লড়ি চলাচলে কোনো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না থাকায় দিনের ব্যস্ত সময়ে ভারী যানবাহন প্রবেশ করে যানজট আরও চরম আকার ধারণ করে।
তানিয়া নামে এক কলেজছাত্রী বলেন, “কলেজে যেতে প্রতিদিন সময়মতো বের হই, কিন্তু যানজটের কারণে প্রায়ই ক্লাস মিস হয়ে যায়। মেয়েদের জন্য সবচেয়ে কষ্টদায়ক হয়, যখন জ্যামে আটকে থাকতে হয় গরমের মধ্যে, আবার অনেকে বাজে মন্তব্যও করে। শহরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দরকার।”
রাশেদ মিয়া বলেন, “জুয়েল ম্যানশনের সামনের মোড়ে বড় ট্রাক গাড়ি আসলেই জ্যাম লেগে পুরো রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।”
নবীগঞ্জ শহরের সড়কগুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অভাব এবং সুনির্দিষ্ট আইন প্রয়োগের দুর্বলতা যানজটের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সচেতন মহল। শহরের কোথাও নেই নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা, ফুটপাতগুলো ব্যবসায়ীদের দখলে। এমনকি ব্যস্ত সময়েও ট্রাক-লড়ির অবাধ চলাচল প্রতিনিয়ত পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
নবীগঞ্জের সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে- অবৈধ পার্কিং বন্ধ, ফুটপাত উচ্ছেদ, ট্রাক ও লড়ির সময় নির্ধারণ, ট্রাফিক পুলিশ বাড়ানোসহ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মতে, শুধু মৌখিক আশ্বাস নয়, নিয়মিত অভিযান এবং নজরদারি চালানো না হলে শহরের এই নৈরাজ্য থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন। জনদুর্ভোগ কমাতে হলে প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী সমাজকে একসাথে উদ্যোগ নিতে হবে।