নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির বহুল প্রতীক্ষিত কাউন্সিল ও সম্মেলনকে সামনে রেখে দলীয় রাজনীতিতে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে। আগামী ৯ জুলাই কাউন্সিল অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা হওয়ার পর থেকে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রচারণা ও প্রস্তুতি। তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি দুইটি বলয়ে বিভক্ত। একটি বলয়ের নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা আলহাজ্ব শেখ সুজাত মিয়া। অপর বলয়ের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সরফরাজ চৌধুরী ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান চৌধুরী শেফু। এরইমধ্যে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ১৩টি ইউনিয়নে কমিটি গঠন করেছে।
এর আগে ২০২২ সালের ৯ নভেম্বর নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মনোনয়ন নিয়ে বিরোধের কারণে পাঁচবার কাউন্সিল স্থগিত করা হয়। এই স্থগিতাদেশে হতাশা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে। দলীয় কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার অভিযোগ তুলে সেই সময় সভাপতি প্রার্থী সৈয়দ মতিউর রহমান পেয়ারার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করেন অপর দুই প্রার্থী আলহাজ্ব শেখ সুজাত মিয়া ও আব্দুল মোক্তাদির চৌধুরী। এর জের ধরে নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মুদ্দত আলী কাউন্সিল স্থগিত ঘোষণা করেন।
বর্তমানে ঘোষিত ৯ জুলাইয়ের সম্ভাব্য কাউন্সিলকে সামনে রেখে নতুন করে মাঠে নেমেছেন ১৫ জন প্রার্থী। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে প্রচার-প্রচারণা। কিছু পদে প্রার্থীদের মধ্যে পদ পরিবর্তনের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক—এই ৫টি পদে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। প্রার্থীরা হলেন-
সভাপতি পদে: আলহাজ্ব শেখ সুজাত মিয়া (সাবেক সাংসদ ও কেন্দ্রীয় বিএনপির অন্যতম সদস্য), সৈয়দ মতিউর রহমান পেয়ারা (সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান), আব্দুল মোক্তাদির চৌধুরী (সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান)।
সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে: মোঃ আশিক মিয়া (সাবেক চেয়ারম্যান), মুশফিকুজ্জামান চৌধুরী নোমান (বিএনপি নেতা)।
সাধারণ সম্পাদক পদে: শিহাব আহমদ চৌধুরী (সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক), মজিদুর রহমান মজিদ (সাবেক যুবদল সভাপতি), মুরশেদ আহমদ (সাবেক যুবদল সাধারণ সম্পাদক)।
যুগ্ম সম্পাদক পদে: এড. জালাল আহমদ (দেবপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি), শফিউল আলম বজলু (গজনাইপুর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি)।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে: সোহেল আহমদ চৌধুরী রিপন, নুরুল গনি চৌধুরী সোহেল, মোঃ আব্দুস শাহিদ তালুকদার, অলিউর রহমান অলি ও জামাল হোসেন।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর কাউন্সিল নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
একাধিকবার কাউন্সিল স্থগিত হওয়ায় অনেক নেতাকর্মী শঙ্কিত থাকলেও এবার ৬ষ্ঠবারের মতো ঘোষিত তারিখ অনুযায়ী অনুষ্ঠান সফলভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একজন কাউন্সিলর আব্দুর রকিব বলেন, “বারবার তারিখ পরিবর্তন ও স্থগিত হওয়ায় আমরা হতাশ। আমরা চাই ভোট দিয়ে আমাদের নেতা নির্বাচন করতে। নেতৃত্ব নির্বাচনে বাধা দেওয়া উচিত নয়।”
সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী শিহাব আহমদ চৌধুরী বলেন, “৯ জুলাই সামনে রেখে আমরা প্রচারণা চালাচ্ছি। আশা করি এবারের কাউন্সিল উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।”
সভাপতি পদপ্রার্থী আলহাজ্ব শেখ সুজাত মিয়া জানান, “৯ জুলাইয়ের সম্ভাব্য তারিখ ও স্থান নিয়ে ২৫ জুন (বুধবার) জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দসহ আমরা অংশ নেবো। আশা করছি কাউন্সিল সফল হবে।”
অপর সভাপতি প্রার্থী সৈয়দ মতিউর রহমান পেয়ারা বলেন, “বারবার বিনা অজুহাতে তারিখ পরিবর্তন করে নেতাকর্মীদের হতাশ করা হয়েছে। এবার আশা করছি নির্ধারিত সময়ে সম্মেলন হবে।”
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মুদ্দত আলী বলেন, “কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আলোচনা করে সম্মেলনের তারিখ ও স্থান নির্ধারণ করবেন। আমরা নির্দেশনা পেয়েছি, (২৫ জুন) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। আগের তফসিল অনুসারেই কাউন্সিল আয়োজনের চেষ্টা থাকবে।”