নবীগঞ্জে এক অমানবিক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন ব্র্যাক প্রগতি শাখার এক ফিল্ড অফিসার। কিস্তির টাকা না পেয়ে এক বৃদ্ধার ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন সুরঞ্জিত পুরকায়স্থ নামের ওই কর্মকর্তা। বৃদ্ধার ঘরে তালা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে নবীগঞ্জ পৌর এলাকার পূর্ব তিমিরপুর গ্রামে। মৃত হরিপদ আচার্য্যের পুত্র অরবিন্দু আচার্য্য ব্র্যাক প্রগতি নবীগঞ্জ বাজার শাখা থেকে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি ২ লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন করেন। তিনি নিয়মিতভাবে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসের কিস্তি পরিশোধ করলেও, জুন মাসে জীবিকার তাগিদে বাইরে চলে যান।
অরবিন্দু বাড়িতে না থাকায় গত ২৪ জুন (মঙ্গলবার) ফিল্ড অফিসার সুরঞ্জিত পুরকায়স্থ কিস্তির টাকা নিতে তার বাড়িতে যান। বৃদ্ধা মা তখন জানান, ছেলে বাড়িতে নেই। পরদিন ২৫ জুন বুধবার সকাল ৯টার দিকে আবার গিয়ে অরবিন্দুর মাকে বাড়িতে না পেয়ে তিনি বৃদ্ধা নারীর বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে চলে যান।
বৃদ্ধা মহিলা সকাল ১১টার দিকে বাড়ি ফিরে এসে দেখেন, নিজের ঘরে তালা লাগানো। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানতে পারেন, ব্র্যাকের ওই কর্মকর্তা টাকা না পাওয়ায় ঘরে তালা মেরেছেন।
অসহায় ওই বৃদ্ধা এরপর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানিয়ে নবীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। কয়েকদিন ঘরে প্রবেশ করতে না পারায় তিনি মানবেতর অবস্থায় অন্যের বাড়িতে দিন কাটাতে বাধ্য হন।
অভিযোগের ভিত্তিতে নবীগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পান। পরবর্তীতে পুলিশি হস্তক্ষেপে ২৭ জুন শুক্রবার তালা খুলে দিয়ে ঘরের দখল ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন- বেসরকারি সংস্থার একজন কর্মকর্তা কীভাবে এমন বেআইনি ও অমানবিক আচরণ করতে পারেন?
অসহায় বৃদ্ধা ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কাছে দোষী অফিসারের কঠোর শাস্তি ও বিচার দাবি করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, এমন কর্মকাণ্ড মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্টদের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।