হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর প্রায় ১৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রতিবছর বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সঠিকভাবে সংস্কার না হওয়ায় বাঁধের অবস্থা ক্রমেই শোচনীয় হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে বর্ষা শুরু হতেই নদীপাড়ের মানুষজন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আঠারপুড়া পাহাড় থেকে উৎপন্ন খোয়াই নদী চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বর্ষা ও পাহাড়ি ঢলের সময় নদীটি হঠাৎ ফুঁসে ওঠে। সম্প্রতি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, অপরিকল্পিতভাবে বাঁধের নিচ থেকে বালু উত্তোলনের কারণে বহু স্থানে বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে। যত্রতত্র ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে, এমনকি সেতুর নিচ থেকেও। এতে বাঁধ ভাঙার পাশাপাশি সেতুর ভিত্তি নড়বড়ে হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
হবিগঞ্জ শহরতলির বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, “ড্রেজার দিয়ে খোয়াই নদীর তীর ঘেঁষে এবং ব্রিজের নিচ থেকে বালু তোলা হচ্ছে। এতে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। শহরের মানুষ আতঙ্কে রয়েছে।”
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ শহর রক্ষা বাঁধেও দেখা দিয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য ফাটল। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রতিবছর সংস্কারের নামে কাজ শুরু হলেও তা অপর্যাপ্ত এবং নিম্নমানের হওয়ায় বাঁধের টেকসই রক্ষা হয় না।
স্কুল শিক্ষক শাহ আলম বলেন, “প্রতিবছর বর্ষা এলেই খোয়াই নদী হঠাৎ রুদ্রমূর্তি ধারণ করে। বাঁধে যেভাবে ফাটল দেখা দিচ্ছে, যেকোনো সময় বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে।”
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, “প্রথমে খোয়াই নদীর দুই পাড়ের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে হবে। নদী দখলমুক্ত না করলে এর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “বাঁধের নিচ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তৎপরতা বাড়ালেই এই সংকট নিরসন সম্ভব।”
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম হাসনাইন মাহমুদ বলেন, “খোয়াই নদীর ১৯০ কিলোমিটারের মধ্যে ১৪৮ কিলোমিটার এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মিত হয়েছে। স্থানীয়দের চাহিদা অনুযায়ী বাকি ৩২ কিলোমিটার এলাকাতেও পর্যায়ক্রমে বাঁধ নির্মাণ করা হবে।”
তিনি জানান, “সংশোধিত একটি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এটি অনুমোদন হলে প্রায় ২৩ কিলোমিটার বাঁধ উঁচু ও প্রশস্ত করা সম্ভব হবে।”
এছাড়া তিনি বলেন, “জালালাবাদ এলাকায় বাঁধসংলগ্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের লক্ষ্যে একটি মামলা চলমান রয়েছে। খুব শিগগিরই বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।”