চুনারুঘাট উপজেলার আব্দুল্লাহপুর এলাকায় গিলানী ছড়ার বাঁধ কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে পাহাড়ি ঢল বা ভারী বৃষ্টিপাত হলেই পানি ঢুকে পড়ছে আশপাশের কৃষি জমি ও মাছের খামারে, ফলে ক্ষতির মুখে পড়ছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবাধে চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় দিন দিন বালু উত্তোলনের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। এতে করে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
স্থানীয় এক কৃষক জানান, “বছরখানেক আগে গিলানী ছড়ার দুই পাশের বাঁধ সরকারি উদ্যোগে মেরামত করা হয়। এরপর থেকে আমরা অনেকটাই নিরাপদে ছিলাম। কিন্তু এখন আবার বাঁধ কেটে বালু তোলা হচ্ছে। ফলে পানি জমিতে ঢুকে ফসল নষ্ট হচ্ছে।”
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এক যুবলীগ নেতার সুবিধার্থে ছড়ার বাঁধ কেটে গর্ত করে জমাট বাঁধা বালু মেশিনের মাধ্যমে উত্তোলন করে তা বিক্রি করা হচ্ছে। এসব বালু ট্রাক্টরযোগে জেলার বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে পাচার করা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ৪ নম্বর পাইকপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে রমজান মিয়ার মালিকানাধীন পুকুরে বালু তোলা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, এভাবে প্রতিনিয়ত বালু বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করা হলেও সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। পাশাপাশি ট্রাক্টরের চলাচলে গ্রামের রাস্তাঘাটও দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে রমজান মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এদিকে, চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিন মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।