
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হবিগঞ্জ সার্কেল অফিসে সেবা নিতে গিয়ে দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ছেন সেবাপ্রার্থীরা। এতে যেমন হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, তেমনি সরকার নির্ধারিত ফি’র চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ গুণতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
ভুক্তভোগীরা জানান, ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস কিংবা রোড পারমিটের জন্য আবেদন করতে গেলে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়। তবে দালালের মাধ্যমে গেলে সহজেই ভুয়া মেডিকেল রিপোর্ট, জন্মনিবন্ধন, ডোপ টেস্টসহ নানা কাগজপত্র দিয়ে কাজ সেরে দেওয়া হয়। এসব কাজে অফিসের অসাধু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীও জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি এসব অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। গতকাল বুধবার (২৩ জুলাই) বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যৌথভাবে অভিযান চালান। অভিযানে ধুলিয়াখাল এলাকার কম্পিউটার ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়াকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ভুয়া ডাক্তারি রিপোর্ট ও বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাদের সিল উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে বাচ্চু মিয়া স্বীকার করে, বিআরটিএ অফিসের কয়েকজন কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশে সে এসব ভুয়া কাগজ তৈরি করত এবং টাকার বিনিময়ে তা সরবরাহ করত। পরে তাকে সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। থানার ওসি একেএম শাহাবুদ্দিন শাহীন জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী হালকা যানবাহনের ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে মোট ব্যয় ২ হাজার ৮৩৮ টাকা। কিন্তু হবিগঞ্জ বিআরটিএ অফিসে এই সেবার জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে ৫-৬ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। একইভাবে সিএনজির লাইসেন্স, রোড পারমিট ও নম্বর প্লেট পেতে সরকার নির্ধারিত প্রায় সাড়ে ১২ হাজার টাকার জায়গায় ২০-২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা শহরের বাসিন্দা রাসেল মিয়া জানান, “লাইসেন্স করতে গিয়ে বহুবার বিআরটিএ অফিসে যেতে হয়েছে। দালাল ছাড়া কিছুই হয় না। এক পর্যায়ে অনিয়মের তথ্য সাংবাদিকদের জানালে দ্রুত লাইসেন্স পাই। এটা থেকেই বোঝা যায়, ভেতরে কত বড় সিন্ডিকেট কাজ করছে।”
বিআরটিএ অফিসের একজন কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অফিসে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) থাকলেও তা বর্তমানে অকেজো। ফলে দালালদের দৌরাত্ম্য আগের মতোই বেড়ে গেছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে। গ্রাহকসেবায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে দালালদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।