৮ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞেস করলাম, Eight শব্দটির ইংরেজি বানান কী?”
সে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল, তারপর ধীরে ধীরে মাথা নিচু করে ফেলল- উত্তর দিতে পারল না। এই একটি দৃশ্য যেন আমাদের গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তবতা।
আজকের শিক্ষার্থীরা স্কুলের শ্রেণিকক্ষে ঠিকই সময় কাটাচ্ছে, কিন্তু জ্ঞানের আলো থেকে রয়ে যাচ্ছে দূরে। শিক্ষকরা পাঠদান করছেন- তবুও দায়বদ্ধতা কোথায়? যাঁদের প্রতি সরকার মাস শেষে সম্মানী প্রদান করেন, তাঁদের মধ্যে কতজন সত্যিকার অর্থে শিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন?
আবার সেই একই শিক্ষক, যখন প্রাইভেট বা কোচিং ক্লাসে পড়ান- সব শিক্ষার্থী তখনই যেন সব বোঝে! তাহলে প্রশ্ন আসে- স্কুলে শেখা হয় না কেন? আমাদের সন্তানেরা আজ প্রাইভেট, কোচিং আর গাইডনির্ভর। স্কুলে পাঠদানের প্রতি আগ্রহ নেই, পাঠ্যবই পড়ে জ্ঞানের গভীরে পৌঁছানোর কোনো প্রয়াস নেই। গাইড, নোট, শর্ট সাজেশন আর পরীক্ষার নম্বর- এই নিয়েই যেন শিক্ষার পুরো সীমানা।
অন্যদিকে প্রযুক্তি তাদের অবসর সময়টুকুও কেড়ে নিচ্ছে। রাত-বিরাতে মোড়ে মোড়ে আড্ডা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইলে ভিডিও, গেম আর রিলসের ভিড়ে ডুবে থাকা- এটাই কি আজকের ছাত্রজীবনের নতুন সংজ্ঞা?
আর যখন তারা সমাজে কার্যকর অবদান রাখতে ব্যর্থ হয়, তখন আমরাই- অভিভাবক ও শিক্ষক, সমাজ প্রশ্ন তুলি: “শিক্ষা ব্যবস্থা কোথায় গেল?”
কিন্তু একবারও কি আমরা নিজেদের দিকে তাকাই? আমরা কি আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি একজন পিতা-মাতা, শিক্ষক, সমাজসচেতন মানুষ হিসেবে?
নবীগঞ্জ উপজেলায় ২০২৫ সালের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফলাফলই যেন বাস্তবতা স্পষ্ট করে দেয়-
মোট পরীক্ষার্থী- ৩৬৫১ জন, উত্তীর্ণ- ২৪৫৫ জন আর জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৮০ জন।
এই ফলাফল কি আমাদের ব্যথিত করে না? এই সংখ্যাগুলো কি আমাদের ঘুম ভাঙাতে যথেষ্ট নয়?
তবে প্রশ্ন একটাই- এই অধঃপতনের দায়ভার আসলে কার?
আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক সমাজ? দায় এড়ানো অভিভাবকবৃন্দ? নাকি আমাদের নীরব, নির্বিকার সমাজ ব্যবস্থা?
সমাধানের পথ কি সত্যিই নেই? আমরা কি কেবল একে-অপরকে দোষারোপ করেই দায়িত্ব শেষ করব?
এখনই সময়- একটি প্রজন্মের অবক্ষয়ের আগে, আমাদের জেগে ওঠার, দায়িত্ব নেওয়ার, পুনর্গঠনের।
নচেৎ, ভবিষ্যতের ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।