ইটভাটার কালো ধোঁয়া আর বিষাক্ত গ্যাসে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে হবিগঞ্জের আকাশ। জেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা এসব ভাটার কারণে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, হবিগঞ্জে সক্রিয় রয়েছে ১১৯টি ইটভাটা। এর মধ্যে ২৪টির কোনো পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। যাদের ছাড়পত্র রয়েছে, তারাও মানছে না পরিবেশ সংরক্ষণ আইন।
সরেজমিনে দেখা যায়, হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের মাত্র পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় অন্তত ২০টি ইটভাটা কার্যক্রম চালাচ্ছে। আবাসিক এলাকা থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যেই এসব ভাটা স্থাপিত হওয়ায় ধোঁয়া ও ধুলাবালিতে নষ্ট হচ্ছে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, ইটভাটার ধোঁয়ায় আশপাশের গাছপালা বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে, ফসলি জমির উৎপাদন কমে গেছে। অনেকেই ভুগছেন শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালা ও চর্মরোগসহ নানা অসুখে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, “এত ইটভাটা কিভাবে ছাড়পত্র ছাড়া চলছে? এতে পরিবেশের ভয়াবহ ক্ষতি হচ্ছে। প্রশাসনের নীরবতার কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে।”
হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. ফরিদুর রহমান জানান, “ইতোমধ্যে চারটি অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আইন না মানা ভাটার বিরুদ্ধে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
স্থানীয়রা বলছেন, কঠোর নজরদারি ও দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জেলার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ভয়াবহ সংকটে পড়বে।