নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে গতকাল রোববার (৩ আগস্ট) উপজেলার বাংলাবাজার জাঙ্গালিয়া মাঠে অনুষ্ঠিত এ কাউন্সিলে মোট ৯২৩ জন ভোটারের মধ্যে ৮০৩ জন ভোট প্রদান করেন।
দলীয় গঠনতন্ত্র ও প্রক্রিয়া অনুযায়ী ৫টি পদে সরাসরি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রতিটি পদের জন্য প্রার্থীদের মধ্যে হয়েছে উৎসবমুখর প্রতিদ্বন্দ্বিতা। নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী যারা বিজয়ী হয়েছেন-
সভাপতি পদে সৈয়দ মতিউর রহমান পেয়ারা নির্বাচিত হয়েছেন ৪৮২ ভোট পেয়ে। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদ আহমদ পাঠান পেয়েছেন ৩১৬ ভোট।
সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে মো. বয়েতুল্লাহ মিয়া ৪৫৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী মুশফিকুজ্জামান চৌধুরী নোমান পেয়েছেন ২০৩ ভোট এবং মো. খসরু চৌধুরী পেয়েছেন ১২৩ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক পদে মজিদুর রহমান মজিদ নির্বাচিত হয়েছেন ৪০৫ ভোটে। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শিহাব আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন ৩৫৭ ভোট এবং মুরশেদ আহমদ পেয়েছেন ৩২ ভোট।
সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে অলিউর রহমান অলি ৪০৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী শফিউল আলম পেয়েছেন ২০৭ ভোট, হারুনুর রশিদ ৪৭ ভোট এবং আবুল খায়ের কায়েদ পেয়েছেন ১২৮ ভোট।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ৫ প্রার্থীর মধ্যে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামাল চৌধুরী ও শাহীদ আহমেদ তালুকদার একে অপরের ফলাফলের নিয়ে করে আপত্তি ও ভোট পুনঃগণনার দাবি উঠলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পাল্টাপাল্টি মিছিল শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মুদ্দত আলী জানান, এই পদের চূড়ান্ত ফলাফল জেলা বিএনপির মাধ্যমে ঘোষণা করা হবে। এরপর নির্বাচন কমিশন মাঠ ত্যাগ করে।
এর আগে সকালে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “এই কাউন্সিলের মাধ্যমে নবীগঞ্জ বিএনপি আরও সুসংগঠিত হবে এবং আগামীর আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।”
কাউন্সিল সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মুদ্দত আলী। কমিশনের অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন অধ্যক্ষ আজিজুল হক, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আবুল ফজল ও অ্যাডভোকেট গুলজার খান।