হবিগঞ্জের শাহজীবাজার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে আগুন লাগার ঘটনায় বিদ্যুৎ সরবরাহে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ১ আগস্ট সন্ধ্যায় আগুন লাগার পর টানা ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকার পর মেরামত সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হলেও, এরপর থেকে ঘন ঘন লোডশেডিং ও দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হবিগঞ্জ শহরবাসী।
২ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পুরো শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। এরপর এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ দিলেও রাত ১০টার দিকে পুনরায় বন্ধ হয়ে যায় সরবরাহ। পরদিন দুপুর পর্যন্ত কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও বিকেলে বৃষ্টির কারণে আবারও টানা ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়।
বিদ্যুৎ অফিসে বারবার যোগাযোগ করেও সমস্যার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে পারেননি ভুক্তভোগীরা। তবে গণমাধ্যমকর্মীদের কয়েকটি ফেসবুক পোস্টে জানা যায়, শাহজীবাজার উপকেন্দ্র সচল থাকলেও প্রায় ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সোর্স লাইনের ‘জাম্পার’ ত্রুটির কারণে শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। পিডিবির কর্মীরা খুঁটি ধরে ধরে ত্রুটি খুঁজছেন, তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত সমাধান মেলেনি।
বিদ্যুৎ সংকটে অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। গরমে অস্বস্তি, গোসল ও অযু করতে না পারা, রান্নাবান্না ও দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাই ভীষণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, “বিদ্যুৎ চলে গেলেও জরুরি নম্বরে কল করা যায় না। সবসময় লাইন ব্যস্ত থাকে। সমস্যার কারণ জানতে পারি না।” তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রত্যাহার দাবি করেন এবং দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আহ্বান জানান।
স্থানীয়রা জানান, বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং হবিগঞ্জে নতুন কিছু নয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই এ সমস্যা চললেও এখনো কার্যকর সমাধান আসেনি। ফলে বারবার জনসাধারণকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।