হবিগঞ্জ শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্তব্ধ হয়ে যায় মাত্র আধাঘণ্টার টানা বৃষ্টির কারণে। হতকাল রোববার (৩ আগস্ট) দুপুর ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়, যার ফলে সড়কগুলো পানি তলায় তলিয়ে জনজীবন একেবারেই থমকে যায়।
বিশেষ করে শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনে রাস্তাসহ পুরো এলাকা পানির নিচে ডুবে যায়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রতিবছর অল্প বৃষ্টিতেই হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সমস্যা তৈরি হয়। কিন্তু এর স্থায়ী সমাধানের জন্য কোন উদ্যোগ নেয়া হয় না, বরং বছরের পর বছর ধরে তথাকথিত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের নামে সময় নষ্ট হয়।
সরাসরি ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে পৌরসভা সড়ক পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ কাজ চলায় যানবাহনের দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বৃষ্টির পানিতে আটকে পড়ে মানুষ এবং যানবাহন।
শায়েস্তানগর, ইনাতাবাদ, চৌধুরীবাজার, সার্কিট হাউজ রোড, মোহনপুর, নোয়াহাটি, বগলবাজার, শ্যামলী, জেলা প্রশাসকের বাসভবন ও পুলিশ সুপারের বাসভবন এলাকা, পুরাতন হাসপাতাল সড়কসহ প্রায় অর্ধশতাধিক স্থানে পানি জমে জনদুর্ভোগ চরমে ওঠে।
স্থানীয় টমটম চালক সোহেল জানান, “এতো জলাবদ্ধতার মধ্যে গাড়ি চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। পানি ঢুকে ইঞ্জিন নষ্ট হয়, প্রতিদিনই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”
অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং দায়িত্বহীনতার কারণে শহরের এই সমস্যা দিন দিন প্রকট হচ্ছে। জলাবদ্ধতার পানিতে আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে দোকান-পাট পর্যন্ত ক্ষতি হচ্ছে, আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে, খাদ্যপণ্য পচে যাচ্ছে। কিন্তু কোন প্রশাসনিক বা প্রকৌশল সমাধানের উদ্যোগ চোখে পড়ে না।