সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় বানিাচংয়ের ঠিকাদার সুজাত মিয়া হত্যা মামলার মূল আসামি গিয়াস উদ্দীন (৫০) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেট জেলা।
নিহত সুজাত মিয়া বানিয়াচং উপজেলার বানেশ্বর এলাকার মৃত নুর আলীর পুত্র।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে গিয়াস উদ্দীন পাগলবেশ ধারণ করে বিভিন্ন মাজার ও সীমান্তবর্তী এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। তার চুল, দাড়ি ও গোঁফ বড় করে এলোমেলো করে রাখেন এবং কোনো মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন না। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত ৯ আগস্ট সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার মনরতল সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে গিয়াস উদ্দীন জানান, নিহত সুজাত মিয়া তার স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়ে তাকে অপমান ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন। এক পর্যায়ে তাকে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনও করা হয়। এ ঘটনার জেরে ২০২৩ সালের ১৩ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে ছাতক থানাধীন জাহিদপুরের একটি ভাড়াটিয়া বাসায় ঘুমন্ত সুজাত মিয়াকে ধারালো বটি দিয়ে কোপান তিনি।
গুরুতর আহত অবস্থায় সুজাত মিয়াকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১৯ জানুয়ারি তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নার্গিস বেগম ছাতক থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে মামলায় ৩০২ ধারায় হত্যা অভিযোগ যুক্ত করা হয়।
প্রথমে পুলিশ অভিযোগপত্রে গিয়াস উদ্দীনকে পলাতক দেখিয়ে অন্য আসামীদের অব্যাহতি দিলে বাদী নারাজি আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশে পিবিআই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে মূল আসামিকে গ্রেফতার করে।
পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।