বানিয়াচংয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে কটুক্তির অভিযোগে পাপন চন্দ্র গোপ (২২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে ব্যাপক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বিকেল ৪টায় উপজেলার বড় বাজারস্থ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে তাওহিদী জনতার উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হযরত মাওলানা শায়খ মখলিছুর রহমান। যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মাওলানা মশিউর রহমান ও মুনতাসীর আলম সুহান।
বক্তারা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত পাপন চন্দ্র গোপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী (সা.) সম্পর্কে কটূক্তিমূলক মন্তব্য করে মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত হেনেছেন। তারা বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশে এমন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, যা কেবল আইনবিরোধীই নয় বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে ও অশান্তি সৃষ্টি করে।
বক্তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানান। তারা হুঁশিয়ারি দেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে এবং পরিস্থিতির দায়ভার প্রশাসনকে নিতে হবে।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শায়খুল হাদিস আল্লামা ফজলুর রহমান খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক আহমেদ আলী মুকিব, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম মোস্তফা, মাওলানা আব্দুল জলিল ইউসুফী, মাওলানা বশির আহমদ, মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা আব্দুল অলি, মাওলানা মুজিবুর রহমান, মাওলানা গোলাম কাদির, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ্ব লুৎফুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়ারিশ উদ্দিন খান, মাওলানা শায়েখ ইকবাল হোসাইন, মাওলানা শায়েখ সিরাজুল ইসলাম, মুফতি আমীর আহমদ, মুফতি এখলাছুর রহমান, মাওলানা নাসির উদ্দিন আনসারী ও ছাত্রনেতা রিমন আহমদ প্রমুখ।
সমাবেশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইমাম-খতিব, মাদ্রাসা শিক্ষক, ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ কয়েক হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, এ ঘটনায় বানিয়াচংয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।
অভিযুক্ত পাপন চন্দ্র গোপ উপজেলার ১নং উত্তর-পূর্ব ইউনিয়নের গোপ মহল্লার মনধীর চন্দ্র গোপের পুত্র। প্রায় ১০ দিন আগে তার নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে নবীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস ও মুসলমানদের অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে পোস্ট দেওয়া হয়। এ ঘটনায় এডভোকেট সৌরভ হবিগঞ্জ আদালতে পাপনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।