
নবীগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে অবশেষে আবারও শুরু হয়েছে নিয়মিত পাঠদান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিনের উদ্যোগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণেই নির্মিত হয়েছে চার কক্ষবিশিষ্ট একটি অস্থায়ী ভবন, যেখানে বর্তমানে ক্লাস কার্যক্রম চলছে।
জানা গেছে, বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনটি ভেঙে ফেলার পর টেন্ডার জটিলতার কারণে নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ দীর্ঘদিন ধরে শুরু করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম বাধ্য হয়ে ভাড়া করা বিভিন্ন বাড়িতে পরিচালিত হচ্ছিল, যা ছিল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি তার নজরে আসে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে তিনি উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে দ্রুত একটি টিনশেড চার কক্ষবিশিষ্ট অস্থায়ী স্কুল ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করেন।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে দুই শিফটে পাঠদান চলছে। এখানে ৩ জন শিক্ষিকা ও ১১০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। দীর্ঘদিন পর নিজস্ব ক্যাম্পাসে ক্লাস করতে পেরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা দিয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, প্রতি মাসে ভাড়া দেওয়া খুবই কষ্টকর ছিল। বিদ্যালয়ের তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। ইউএনও স্যারের দ্রুত উদ্যোগে এখন তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারছেন।
গতকাল বুধবার ইউএনও মো. রুহুল আমিন সরেজমিন বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান। তিনি জানান, “শিক্ষার্থীদের জন্য এ কাজটি করতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত। অচিরেই মূল ভবনের টেন্ডার জটিলতা নিরসন করে নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।”