
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও টানা ৩ বারের নির্বাচিত হবিগঞ্জ পৌরসভার পদত্যাগকারী মেয়র আলহাজ্ব জি কে গউছ বলেছেন- বাংলাদেশের মানুষ নিজের ভোট নিজে দিতে চায়, ভোট সেন্টারে যেতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে চায়। কিন্তু আওয়ামীলীগ গণতন্ত্রের কথা বলে গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। মানুষ যখনই আওয়ামীলীগের এই অপকর্মের প্রতিবাদ করেছে তখনই গায়েবী মামলা, পুলিশী হয়রানী, জেল জুলম নির্যাতনের শিকার হয়েছে। মানুষ নীরবে আওয়ামীলীগের নির্যাতন সহ্য করেছে, আর চোখের পানি ফেলে আল্লাহকে ডেকেছে। যার পরিণতি আওয়ামীলীগকে ভোগ করতে হয়েছে, আওয়ামীলীগ নেতাদেরকে দেশ থেকে পালাতে হয়েছে।
তিনি গতকাল শনিবার দুপুরে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লাখাই উপজেলার ১নং ইউনিয়নের ৭টি ভোট সেন্টার নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। পরে তিনি একই ইউনিয়নের শিবপুরে এক জনসভায় বক্তব্য রাখেন।
সভায় জি কে গউছ আরও বলেন- বাংলাদেশে ভোটের উৎসব শুরু হয়ে গেছে। আমরা প্রতিটি ঘরে প্রতিটি গ্রামে প্রতিটি ওয়ার্ডে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সালাম নিয়ে যাচ্ছি, তারেক রহমানের বার্তা পৌছে দিচ্ছি। আমরা যারা বিএনপি করি মানুষকে ভালবাসি, মানুষের কল্যাণে কাজ করি। মানুষকে নিয়েই বিএনপির পথচলা।
তিনি বলেন- সনাতন ধর্মের অনেক মানুষ বিএনপির সভা-সমাবেশে মিছিল নিয়ে আসছেন, খালেদা জিয়ার পক্ষে, তারেক রহমানের পক্ষে, ধানের শীষের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছেন, আপনার প্রমাণ করছেন কোনো ধর্ম রাজনৈতিক দলের জন্য বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। সকল ধর্মের মানুষকে নিয়েই লাখাইর উন্নয়নে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন- আওয়ামীলীগ জোর করে মানুষের ভোট নিয়েছে, মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছে, মানুষের রোষানলে পড়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। আমরা এই দেশে থাকতে চাই, এই দেশের মানুষের সাথে মিলেমিশে আমাদের পথচলা।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে জি কে গউছ বলেন- অতি উৎসাহ ভাল নয়, যারা বিএনপির জন্য গত ১৭টি বছর ত্যাগ স্বীকার করেছেন, পুলিশের মুখোমুখি হয়েছেন, মামলা হামলা, জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন, রক্তাক্ত হয়েছেন, ব্যবসা বাণিজ্য হারিয়েছেন, আপনার এই ত্যাগ দলের জন্য, দেশের জন্য আর্শিবাদ হউক, এটা আমরা প্রত্যাশা করি। কিন্তু আপনার এই ত্যাগকে পুজি করে এই অঞ্চলের মানুষের জন্য যদি আপনার রাজনীতি হুমকি হয় তাহলে তারেক রহমান আপনাকে বিএনপিতে বরদাস্ত করবেন না। ইতিমধ্যেই দলের ৫ হাজারের উপরে নেতাকর্মীকে বহিস্কার করা হয়েছে।
তিনি বলেন- শেখ হাসিনা পালিয়েছে, আবু জাহির পালিয়েছে, আজাদ পালিয়েছে, কিন্তু লাখাই থেকে আওয়ামীলীগের সব লোকজন পালিয়ে যায়নি। তারা বুকে বিষ নিয়ে ঘাপটি মেরে বসে আছে, সুযোগ পাইলেই দেশের বিরুদ্ধে দলের বিরুদ্ধে এই বিষ প্রয়োগ করবে। এটা আমাদের সকলের মাথায় রাখতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোস্তফা কামাল খসরুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম মিয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট হাজী নুরুল ইসলাম ও হাজী এনামুল হক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ড. আক্তার আহাদ চৌধুরী স্বপন, সিনিয়র সহ সভাপতি শেখ ফরিদ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক এড. শামছুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম গোলাপ, সাংগঠনিক সম্পাদক শামছুদ্দিন আহমেদ, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সফিকুর রহমান সিতু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক ইমরান প্রমুখ।