
গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে মাধবপুর উপজেলার ইটাখোলা ও বেঙ্গাডোবা গ্রাম। গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চার দিন ধরে দুই গ্রামের পুরুষেরা পালিয়ে থাকায় তাদের পরিবারে দেখা দিয়েছে খাদ্যের অভাবসহ নানা সমস্যা। গ্রামদ্বয় রয়েছে পুরুষ শূন্য। বাড়িতে দেখা যায়, শুধুমাত্র নারী ও শিশুদের। পুলিশের ভয়ে তাদের বাড়িতে আসছেন না কোনো আত্মীয়-স্বজনও।
জানা যায়- মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটা থেকে টানা পাঁচ ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় ইটাখোলা ও বেঙ্গাডোবা গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হন। আহতদের হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও মাধবপুর উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সেনাবাহিনী ও মাধবপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। দু'পক্ষের সংঘর্ষে থানার ওসিসহ ১২জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে সোমবার (১ ডিসেম্বর) ৮০ জনের নাম উল্লেখ করে পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা দায়ের করে পুলিশ। অজ্ঞাত আসামি রাখা হয়েছে দুই হাজার। এরই প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ২০ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছে।
ইটাখোলা গ্রামের জুলেখা বেগম বলেন- “আমার স্বামী কোথায় পালিয়ে আছেন, জানি না। ঘরে বাজার-সদাই নেই। বাচ্চাদের নিয়ে দুইবেলা খেয়ে বেঁচে থাকার উপায় দেখছি না।”
একই গ্রামের আছিয়া খাতুন বলেন- “আমরার কেউ মারামারিতে গেছইননা, তারা বাড়িতেও আছলানা। পুলিশের ডরে বাড়ি ছাইরা গেছইন। আমরা বড় অভাবের মাঝে আছি।”
বেঙ্গাডোবা গ্রামের স্বপ্না বেগম সহ দুই গ্রামের কয়েকজন জানান- ৩০ ডিসেম্বর মারামারির ঘটনা ঘটেছে। পরে দুই গ্রামবাসী সমঝোতা করে বিষয়টি মিমাংসা করেছেন। কিন্তু পুলিশ হয়রানি করছে দুই গ্রামের মানুষকে। যারা মারামারিতে ছিল না, তাদের বাড়ি-ঘরেও প্রতি রাতে অভিযান চালিয়ে হয়রানি করছে পুলিশ প্রশাসন।
এদিকে হয়রানির বিষয়টি অস্বীকার করে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহিদ উল্ল্যা বলেন- “দুই গ্রামের মারামারি ছিল ভয়াবহ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু সংঘর্ষকারীরা পুলিশের উপর হামলা করে। এতে ১২জন পুলিশ আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৮ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করতে বাধ্য হয়।”
তিনি আরও বলেন- পুলিশের কাজ হয়রানি করা নয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা। ধৃত আসামিদের জবানবন্দি এবং সংঘর্ষের ভিডিও দেখে দেখে তাদের গ্রেফতার করতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”