মাধবপুর উপজেলার শাহজীবাজার এলাকায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সরকারি খাস ভূমি দখল করে অবৈধভাবে টং দোকান স্থাপন ও আড়ালে মাদক সেবনের অভিযোগ উঠেছে। এতে হযরত শাহ সোলেমান ফতেহগাজী বাগদাদী (রহঃ) মাজার শরিফে আগত জিয়ারতকারী, কবর জিয়ারতকারীসহ পাশের হাফিজিয়া ও এতিমখানা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের চলাচল ও পড়াশোনার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামের মৃত লবজ উল্লার ছেলে মোঃ ফারুক মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ডিসি-১ নং সরকারি খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত বন্দেগী টিলার নিচে, মাজার শরিফের প্রধান প্রবেশ গেইটের সামনে একটি অবৈধ টং দোকান স্থাপন করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ওই টং দোকানের আড়ালে মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসাও চলমান রয়েছে।
এ ঘটনায় অসহায় এক নিরিহ নারী হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, সরকারি গেইটের সামনে অবৈধভাবে টং দোকান বসানো থাকায় প্রতিদিন শত শত জিয়ারতকারীর যাতায়াতে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মাজার শরিফে দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে হবিগঞ্জের সাবেক জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের উদ্যোগে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি বড় প্রবেশ গেইট রয়েছে। কিন্তু ওই গেইটের সামনে জেলা প্রশাসকের উদ্বোধনী ভিত্তিপ্রস্তর ঢেকে রেখে টং দোকান বসানো হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, টং দোকানের পাশেই মালিকানা জায়গায় অবস্থিত গাউছিয়া নূরানী ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাফিজিয়া ও এতিমখানা মাদ্রাসার প্রবেশ পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে মাদ্রাসার ভেতরে আলো-বাতাস প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, টং দোকান বসানোর কারণে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও লেখাপড়ায় মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ ফারুক মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি মৌরসি সম্পত্তি হিসেবে টং দোকান বসিয়েছেন এবং প্রশাসন চাইলে উচ্ছেদ করা যাবে না। তবে স্থানীয় সচেতন মহল দাবি করছে, একটি প্রভাবশালী চক্র রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে সরকারি জমি দখল করে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে।
এ ঘটনায় হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং শাহজীবাজার সেনাবাহিনী ক্যাম্প কমান্ডারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সুপারের নির্দেশে মাধবপুর থানা পুলিশ সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেছে বলেও জানা গেছে।
তবে জেলা প্রশাসনের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এখনো সরকারি জায়গা থেকে অবৈধ টং দোকান উচ্ছেদ না হওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহল ও জিয়ারতকারীদের মাঝে ক্ষোভ বাড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যে কোনো সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।