গলা বাড়িয়ে জলের বুকে দাঁড়িয়ে আছে একেকটি লাল শাপলা। দূর থেকে মনে হয়, যেন জলের ওপর গড়ে উঠেছে লাল রঙের রূপমহল। হেমন্তের ভোরে কুয়াশার স্বচ্ছ চাদরে মোড়া এই শাপলা বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন অসংখ্য প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটক।
চুনারঘাট উপজেলার দেওন্দি চা বাগানের পাশে অবস্থিত শাপলা বিলটি এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখর। প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে নানা বয়সী দর্শনার্থীদের ভিড় জমছে সেখানে। একদিকে সবুজ চা বাগান, অন্যদিকে পাহাড়ের নীরবতা আর মাঝখানে লাল শাপলার বিস্তৃত জলরাশি—সব মিলিয়ে এক অনন্য প্রাকৃতিক দৃশ্যপট।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চুনারঘাটের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও রঘুনন্দন গভীর অরণ্যের কাছাকাছি দেওন্দি চা বাগানের এই শাপলা বিলটি দিন দিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাপলা বিলের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শাপলা বিলে শাপলা ফোটে মূলত রাতের বেলায়। তাই ফুটে থাকা শাপলার সৌন্দর্য দেখতে সকালবেলাতেই মানুষের ঢল নামে। অনেকেই শাপলা হাতে নিয়ে ছবি তুলছেন, কেউ আবার প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সময় কাটাচ্ছেন। লাল শাপলা, দূরের পাহাড়, সবুজ চা বাগান আর পাখির কিচিরমিচির শব্দ—সব মিলিয়ে শাপলা বিল এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে।
জেলা শহর ও আশপাশের এলাকা থেকে অনেক পরিবার বিকেলের সময় সপরিবারে সেখানে বেড়াতে যাচ্ছেন।
বিশাল দেব নামের এক পর্যটক বলেন, “লাল শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে বন্ধুদের সঙ্গে এখানে এসেছি। বিলজুড়ে শুধু শাপলা আর শাপলা। অনেক ছবি তুলেছি, অন্যদেরও ছবি তুলে দিয়েছি। পরিবারের জন্য ভিডিওও করেছি।”
আরেক পর্যটক ইকবাল আহমেদ বলেন, “চুনারঘাটের এই লাল শাপলা বিল আমাকে মুগ্ধ করেছে। একদিকে চা বাগান, অন্যদিকে মাঝখানে এমন লাল শাপলা বিল—দৃশ্যটা সত্যিই মনোমুগ্ধকর।”
এদিকে শাপলা বিল দেখতে আসা লন্ডনপ্রবাসী মামুন নামের এক বাংলাদেশি দম্পতি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “শাপলা বিল দেখে সত্যিই অভিভূত। এ দেশ সত্যিই সোনার বাংলা।”
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা চুনারঘাটের দেওন্দি শাপলা বিল এখন শুধু একটি জলাভূমি নয়, বরং প্রকৃতি ও পর্যটনের এক অপূর্ব মিলনস্থল হয়ে উঠেছে।