
নবীগঞ্জ উপজেলার ১২নং কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়নের খলিলপুর গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা জসিম উদ্দিনের নেতৃত্ব ইসলাম উদ্দিনের দুই ছেলে নিজাম উদ্দীন (২৭) ও আমির উদ্দীন (২৫)-কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে আমির উদ্দীন বর্তমানে আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে খলিলপুর ও সীমেরগাঁও গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে হান্নান মিয়ার বাড়ির কালাবার্টের সামনে।
আহতদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন থেকে চার মাস আগে জসিম মেম্বারের ভাই একটি ডোবা জোরপূর্বক বিক্রি করে এতে ইসলাম উদ্দীনের ছেলেরা বাধা দিলে তাদের বাড়িঘর ভেঙ্গে দেয়। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বৃহস্পতিবার রাতে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, নিজাম উদ্দীন তার শ্বশুর আলফু মিয়ার কাছ থেকে সিকন্দরপুর এলাকা থেকে তিন লক্ষ টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ৮নং খাগাউড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক জসিম মিয়ার নেতৃত্বে জুয়েল (৩৫), হাশেম (৩২), রুবেল (৩০), শাহীন (২৯), সুহেল (২৮), তার ফুফাতো ভাই জুলহাস (২৮), চাচাতো ভাই জুনাইদ (২৭), তালতো ভাই জমশর উদ্দীন (২৬), আরেক চাচাতো ভাই শুয়েব (২৫)সহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় তাদের সাথে থাকা তিন লক্ষ টাকা তারা লুট করে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন তারা।
হামলাকারীরা রামদা, চাপাতি, শাবল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নিজাম ও আমির উদ্দীনকে গুরুতর আহত করে। তাদের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দু’জনকেই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আমির উদ্দীন বর্তমানে আইসিইউতে মুমূর্ষ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তিন দিন পার হলেও তার জ্ঞান ফেরেনি। অপর আহত নিজাম উদ্দীনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনের নিকট দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।