
নবীগঞ্জ উপজেলায় কৃষিজমি সুরক্ষা ও অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সরকারি অনুমতি ছাড়া কৃষিজমি থেকে মাটি কাটা ও জমির শ্রেণি পরিবর্তনের দায়ে এক ব্যক্তিকে মোবাইল কোর্টে দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি পৃথক আরেকটি অভিযানে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ উমরপুর মৌজার পুরানগাঁও গ্রামের (রাংগাহাটি, খাগাউড়া) আরব আলী মিয়ার ছেলে আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৭ক ধারায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানে তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে কৃষিজমি থেকে মাটি কাটা ও জমির শ্রেণি পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়ায় তাকে দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, গত বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) অভিযানের সময় অবৈধভাবে কাটা মাটি জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে গতকাল রোববার (২১ ডিসেম্বর) মোবাইল কোর্ট বসিয়ে অভিযুক্তকে জরিমানা করা হয়।
অপরদিকে, একই দিনে নবীগঞ্জ উপজেলার এনাতাবাদ মৌজার জাহিদপুর গ্রামে অনুমতি ছাড়া কৃষিজমি থেকে টপ সয়েল কাটার অভিযোগে আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় খোলা কৃষিজমিতে এক্সেভেটর ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে মাটি কাটা ও পরিবহণ কার্যক্রম চলমান অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট এক্সেভেটর ও ট্রাক্টরের চালকরা জিজ্ঞাসাবাদের আগেই পালিয়ে যায়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগের মাটি কেটে নেওয়ার ফলে এলাকার চাষযোগ্য জমি হ্রাস পাচ্ছে, যা কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। এ ঘটনায় জমির রেকর্ডীয় মালিক কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া জমির শ্রেণি পরিবর্তনের মাধ্যমে মাটি কাটায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২-এর ৭ক ধারা লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযানের পর গোপলারবাজার ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে নিয়মিত মামলা দায়েরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম বলেন, “কৃষিজমি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। অনুমতি ছাড়া টপ সয়েল কাটা ও জমির শ্রেণি পরিবর্তন পরিবেশ ও কৃষির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান নিয়মিত চলবে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
উপজেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগে স্থানীয় সচেতন মহল সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে আরও কঠোর নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।