হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে গর্ভনিরোধক ইমপ্লান্টের মেয়াদ শেষ হলেও অপসারণ সেবা না পাওয়ার অভিযোগের পর অবশেষে ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে এনে ইমপ্লান্ট অপসারণ করা হয়েছে।
গত ১৬ জুলাই দৈনিক হবিগঞ্জ সময়-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে আসে, ইমপ্লান্টের মেয়াদ শেষ হওয়া নারীরা নির্ধারিত সময়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে গিয়ে চিকিৎসককে না পেয়ে বারবার ফিরে যাচ্ছেন। এতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়ছিলেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর গত সোমবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগের মতো শুধু গ্রুপ মেসেজ না পাঠিয়ে ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে আসতে অনুরোধ করেন। পরে তাদের ইমপ্লান্ট অপসারণ সেবা দেওয়া হয়।
এক ভুক্তভোগী নারী জানান, তাঁর ইমপ্লান্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি সেটি খুলে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে গিয়েও সেবা না পাওয়ায় তিনি ভোগান্তিতে পড়েন। পরে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও মেডিকেল অফিসার ডা. সুজন চন্দ্র সাহা ফোন করে তাঁকে কার্যালয়ে ডেকে এনে ইমপ্লান্ট অপসারণ করে দেন।
তবে তিনি বলেন, সময়মতো সেবা না পাওয়ায় সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাঁকে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও মেডিকেল অফিসার ডা. সুজন চন্দ্র সাহার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
হবিগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক এ কে এম সেলিম ভূঁইয়া বলেন, “ইমপ্লান্ট অপসারণ আমাদের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ। প্রতি মাসেই ইমপ্লান্ট অপসারণের জন্য নির্ধারিত তারিখ থাকবে। আমি ডা. সুজন চন্দ্র সাহাকে মাসে একটি নয়, দুটি তারিখ নির্ধারণ করতে বলেছি, যাতে মানুষের দুর্ভোগ কমে। বিষয়টি আমি তদারকি করছি। আশা করি ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা আর হবে না।”