হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর গ্রামে দীর্ঘদিনের পানি নিষ্কাশন সমস্যার কারণে স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রাকৃতিক খাল দখল, ভরাট এবং বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণের ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি বের হওয়ার স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কৃষিজমি জলাবদ্ধ হয়ে পড়ছে, ফসল নষ্ট হচ্ছে এবং জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রাকৃতিক খালগুলো দিয়ে সহজেই অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু অসাধু ব্যক্তি খাল দখল, ভরাট এবং অবৈধ বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করেছেন। ফলে প্রতিবছর বর্ষা এলেই বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে অনেক কৃষক আবাদ করতে পারেন না, আর যারা আবাদ করেন তাদের ফসলও নষ্ট হয়ে যায়।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন কিছু জমি প্রকৃত মালিকরা ব্যবহার না করলেও কিছু ব্যক্তি সেগুলো অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। এসব জমিতে ইচ্ছেমতো বাঁধ নির্মাণ করে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, যার প্রভাব পুরো গ্রামের ওপর পড়ছে।
এ অবস্থায় শুধু কৃষিই নয়, গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না এবং খেলাধুলাসহ স্বাভাবিক সামাজিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, কিছুদিন আগে গ্রামের সচেতন মানুষ উদ্যোগ নিয়ে দুটি অবৈধ বাঁধ অপসারণ করেছিলেন। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও একই স্থানে নতুন করে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি স্থানীয়রা পুনরায় একটি অবৈধ বাঁধ অপসারণ করে পানি চলাচলের পথ সচল করেন। এ সময় বাধার মুখে পড়লেও তারা বাঁধ অপসারণে সফল হন। তবে বাঁধ অপসারণের পর সংশ্লিষ্ট দখলদারদের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আবারও সেখানে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করা হবে। ভয়ের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন, নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থায়ীভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি খাল দখল ও অবৈধ বাঁধ নির্মাণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।