
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকা মূল্যের সরকারি যানবাহন দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত ও অযত্নে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। পৌরসভার দুটি রোড রোলার ও একটি ট্রাক দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে যানবাহনগুলোর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে গেছে। কোথাও জমেছে জং, কোথাও শেওলা ও লতাপাতা। একটি রোড রোলারের টায়ার মাটির নিচে দেবে গিয়ে সেটি এখন মাটিতে মিশে যাচ্ছে।
সরকারি অর্থে কেনা মূল্যবান এসব যানবাহন এভাবে বছরের পর বছর পড়ে থেকে নষ্ট হলেও সেগুলো সংরক্ষণ, মেরামত কিংবা বিকল্প ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে পৌর কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে সরকারি সম্পদের অপচয় ও কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে নবীগঞ্জ পৌরসভা কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পৌর ভবনের সামনে ফেলে রাখা দুটি রোড রোলার দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় রোলারগুলোর বিভিন্ন অংশে জং ধরেছে। একটি রোলারের টায়ার মাটিতে দেবে যাওয়ায় সেটি রিংয়ের ওপর ভর করে রয়েছে। অন্যদিকে অচল ট্রাকটির বিভিন্ন অংশে শেওলা জমে গেছে এবং কোথাও কোথাও লতাপাতা গজিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহার না হওয়ায় পুরো যানবাহনটিই পরিত্যক্ত অবস্থার চেহারা নিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনগণের অর্থে কেনা মূল্যবান এসব যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বছরের পর বছর পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে খানাখন্দ এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তূপ থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। কোটি টাকা মূল্যের সরকারি সম্পদ এভাবে নষ্ট হওয়া কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সম্পদ এভাবে বছরের পর বছর ফেলে রেখে নষ্ট করার পরিবর্তে দ্রুত এসব যানবাহনের প্রকৃত অবস্থা নিরূপণ করা প্রয়োজন। মেরামতযোগ্য যানবাহন দ্রুত সংস্কার করে কাজে লাগানো এবং সম্পূর্ণ অকেজো যানবাহনগুলো বিধি অনুযায়ী নিলাম বা অন্য কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহরে মাধ্যমে পৌরসভার আর্থিক ক্ষতি কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশলী মো. শহিদুল হক বলেন, দুটি রোড রোলার অকেজো। এর মধ্যে একটি হয়তো মেরামত করে চালু করা সম্ভব হতে পারে, অন্যটি চালু করা সম্ভব হবে না। একটি আনুমানিক দুই বছর এবং অন্যটি আরও দীর্ঘ সময় ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। তবে ঠিক কতদিন ধরে এগুলো অচল অবস্থায় পড়ে আছে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। অচল ট্রাকটিও সম্পূর্ণ অকেজো বলে জানান পৌরসভার এই প্রকৌশলী। তিনি বলেন, এগুলো অনেক পুরোনো এবং যন্ত্রাংশও খুবই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
অচল যানবাহনগুলো মেরামত বা নিলামে বিক্রির বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, একবার মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছিল এবং তিনি তথ্য দিয়েছেন। তবে বর্তমানে এসব যানবাহনের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাতে পারেননি।