হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার ৭নং বড়ইউড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মো. আরজু মিয়ার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিরীহ মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা হিফজুর রহমান নিজেকে এ হয়রানির শিকার দাবি করে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এলাকায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে মোঃ আরজু মিয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে আসছেন। বিশেষ করে হিফজুর রহমান ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে তার দাপটে তটস্থ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মোঃ আরজু মিয়া দীর্ঘ সময় ধরে নিজেকে তৎকালীন প্রভাবশালী সংসদ সদস্য আব্দুল মজিদ খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় একটি শক্ত প্রভাববলয় গড়ে তোলেন। এই পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে তিনি একাধিক নিরীহ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
হিফজুর রহমান জানান, আওয়ামী লীগের শাসনামলে মোঃ আরজু মিয়া তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ ও মামলা দিয়ে হয়রানি করেন। অভিযোগের ধারাবাহিকতায় পারিবারিক সম্পর্কও ভেঙে পড়েছে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হিফজুর রহমানকে ঘায়েল করতে আরজু মিয়া তার নিজের শাশুড়ি, অর্থাৎ হিফজুর রহমানের মা মনোয়ারা খাতুনকে প্রভাবিত করে বানিয়াচং থানাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করান। তবে তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা না পাওয়ায় হিফজুর রহমান একাধিকবার রেহাই পান।
সর্বশেষ অভিযোগ অনুযায়ী, মোঃ আরজু মিয়া হিফজুর রহমানের পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া এবং প্রায় ৩০ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন। বেতকান্দি মৌজার জেএল নং- ৩৪, আরএস খতিয়ান নং ৯৭২, আরএস দাগ নং ১৬৭৬ এর অন্তর্ভুক্ত ১ একর ৭৪ শতক জমির মধ্য থেকে ২০ শতক আমন শ্রেণির জমি দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসছেন হিফজুর রহমান। অভিযোগ রয়েছে, এই জমি দখলে নিতে মোঃ আরজু মিয়া তাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হিফজুর রহমান অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে হবিগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরজু মিয়াসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা অনুযায়ী অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এবং শুনানি সাপেক্ষে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে বানিয়াচং থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আমিনুল ইসলাম ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের কাছে ১৪৪ ধারা জারির নোটিশ পৌঁছে দিয়েছেন। আদেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
হিফজুর রহমান বলেন, আরজু মিয়ার লাগাতার চাপ ও হয়রানিতে তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানেও তার পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আরজু মিয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি প্রশাসনের জোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আরজু মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply