নবীগঞ্জ শহরের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ তিমিরপুর-ছালামতপুর প্রস্তাবিত বাইপাস সড়কটির কাজ অদ্যাবধি শুরু না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শহরবাসী। নিত্যদিনের এই যানজটের কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। ভুক্তভোগীরা দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।
হবিগঞ্জ জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১২ মে নবীগঞ্জ পৌরসভার সীমান্ত তিমিরপুর থেকে ছালামতপুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের পুনর্গঠিত প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১৭৩ কোটি ৬৩ লক্ষ ২২ হাজার টাকা। ৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৩২ ফুট প্রস্থের এই সংযোগ সড়ক প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ সাল পর্যন্ত। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য হবিগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ ২০২৪ সালের ১২ মে প্রণীত প্রাক্কলন ডিপিপি অনুমোদনের জন্য প্রধান প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, আগারগাঁও, ঢাকায় প্রেরণ করে। তবে পরবর্তীতে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সরকার পতনের কারণে প্রকল্পটি স্থবির হয়ে পড়ে।
প্রবাসী অধ্যুষিত নবীগঞ্জ উপজেলায় ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ মানুষের বসবাস। ভৌগোলিক কারণে প্রতিদিন নবীগঞ্জ উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বানিয়াচং ও সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার হাজারো মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে নবীগঞ্জ শহরে আসেন। ফলে বেলা ১১টার পর থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নবীগঞ্জ হাসপাতাল সড়ক থেকে শেরপুর সড়কের ফুলকলি পর্যন্ত এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিশেষ করে নবীগঞ্জ শহরের জুয়েল ম্যানসনের সম্মুখ থেকে শেরপুর সড়কগামী অংশটি সরু হওয়ায় যানজটের মাত্রা বেড়ে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরু রাস্তায় অবৈধভাবে অটোরিকশা স্ট্যান্ড গড়ে ওঠা।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিনই এই এলাকায় একই ধরনের যানজটের চিত্র। অনেক সময় সাধারণ মানুষ রিকশা থেকে নেমে পায়ে হেঁটে পথ পার হতে বাধ্য হন। যানজটের তীব্রতায় রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে চলাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা-সিলেটগামী বাইপাস মহাসড়কের কিছু বাস ও ট্রাক শর্টকাট হিসেবে নবীগঞ্জ শহরের ভেতর দিয়ে চলাচল করায় যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। বিগত সরকারের আমলে তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজি মোহাম্মদ শাহনওয়াজের উদ্যোগে হবিগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল আহমদ সরেজমিনে পরিদর্শন করে বাইপাস সংযোগ সড়কটির মাপঝোক সম্পন্ন করেন এবং প্রাক্কলন অনুমোদনের জন্য প্রধান কার্যালয়ে পাঠান। এতে নবীগঞ্জবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও পটপরিবর্তনের কারণে প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি।
কলেজ ছাত্রী অনিন্দিতা বলেন, “নবীগঞ্জ শহরের তীব্র যানজটের কারণে আমরা প্রায়ই সময়মতো কলেজে পৌঁছাতে পারি না। দ্রুত এর একটি স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।”
অধ্যক্ষ নজির আহমদ ও শিক্ষক নিরুপম দেব বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে নবীগঞ্জবাসী যানজটের ভোগান্তিতে রয়েছে। বাইপাস সংযোগ সড়কটি দ্রুত বাস্তবায়ন হলে শহরের মানুষ স্বস্তিতে চলাচল করতে পারবে।”
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাকির হোসেন বলেন, “প্রস্তাবিত প্রকল্পটির প্রাক্কলন পুনরায় যাচাই-বাছাই করে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি আগামী মাসেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অনুমোদন পাওয়া যাবে।”
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply