1. dailyhabiganjshomoy@gmail.com : shomoy2017 : দৈনিক হবিগঞ্জ সময়
September 13, 2026, 11:03 am

অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে বধ্যভূমি

Reporter
  • Updated Wednesday, December 13, 2023
  • 140

সৈয়দ আখলাক উদ্দিন মনসুর, শায়েস্তাগঞ্জ : বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাসে এক করুণ অধ্যায় বধ্যভূমি আর গণহত্যার ইতিহাস। সারাদেশের অনেক জায়গার মতো শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনের দাউনগর বাজার রেলগেইট এলাকায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে হানাদার বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার দলিল এ বধ্যভূমি এখনও অরতি।
জানা যায়, ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার এক শোকাবহ স্মৃতিচিহ্ন অঙ্কিত হয়ে আছে এই বধ্যভূমিতে। ওই স্থানে পাকবাহিনীরা লালচান চা-বাগানসহ বিভিন্ন স্থান থেকে মুক্তিযোদ্ধাসহ ১১ জনকে হত্যা করে গণকবর দেয়।
তারা হলেন অনু মিয়া, শ্রী কৃষ্ণ আউরি, জয়াজ কুমার, শ্রী বভাবরা বাউরি, শুনিলা বাউরি, নেপু বাউরি, লাল সাধু বাউরি, রাজেন্দ্র রায়, গফুর রায়, মহাদেব বাউরি ও দিপক বাউরি। এর মধ্যে একজন ছিলেন মুসলমান। তাদেরকে যথাযোগ্য সম্মান দেয়া বাঙালি জাতির দায়িত্ব ও কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত। সে বিবেচনায় শায়েস্তাগঞ্জের এই বধ্যভূমি উপযুক্ত মর্যাদা ও সম্মান পাওয়া থেকে অনেকাংশেই বঞ্চিত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ বধ্যভূমি রেল লাইন সংলগ্ন হওয়ায় রেল লাইন অতিক্রম ব্যতীত সেখানে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় শায়েস্তাগঞ্জ-হবিগঞ্জ সড়ক থেকে বধ্যভূমিতে যাতায়াতের সুবিধার্থে একটি পাকা সড়ক নির্মাণ করা হলেও ওই সড়কটি এখন সিএনজি অটোরিকশার দখলে। এ সড়ক দিয়ে মানুষ চলাচলের কোনো পরিবেশ নেই।
বধ্যভূমি সংরক্ষণের জন্য একজন মুক্তিযোদ্ধা তার নিজস্ব অর্থায়নে ভবন নির্মাণ করে দিয়েছেন। কিন্তু বধ্যভূমিতে গড়ে ওঠেনি কোনো স্মৃতিস্তম্ব। শুধুমাত্র একটা সাইনবোর্ড বসানো রয়েছে। যার লেখাও অনেকটা মুছে গেছে। ভালো করে না দেখলে কেউ বুজবেই না যে এটা বধ্যভূমির সাইনবোর্ড। আর কয়েকটা পাকা পিলার দিয়ে সীমানা নির্ধারন করা হয়েছে। স্বাধীনতার ৪৮ বছরও পার হলেও এখনো অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে বধ্যভূমিটি। রনাবেন কার্যালয়ের সামনে ১১ জন চা শ্রমিকের নাম সংবলিত একটা ফলক থাকলেও তাও মুছে যাওয়ার উপক্রম।
এ ব্যাপারে আলাপকালে বধ্যভূমি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সাবেক আহ্বায়ক শিপন মিয়া জানান, তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস ছাত্তার বধ্যভূমির পাশে নিজের অর্থায়নে একটি মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয় ভবন নির্মাণ করেন। বর্তমানে তিনি বধ্যভূমির রণাবেণের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এ ব্যাপারে শায়েস্তগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী গোলাম মর্তুজা এ প্রতিনিধিকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে এ বধ্যভূমি স্বীকৃতি পেয়েছে এবং গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বর্তমানে পৌর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কর্তৃক ওই বধ্যভূমি রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে এই বধ্যভূমির পবিত্রতা রক্ষার বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে রক্ষণাবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ পাকা পিলার দিয়ে বধ্যভূমির সীমানা চিহ্নিত করে ঘিরে দিয়েছেন। এতে বধ্যভূমির সীমানা চিহ্নিত হলেও এর পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষা নিশ্চিত হয়নি এখনো।
এ ব্যাপারে সাবেক শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম বলেছিলেন, বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে খুবই আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল। বধ্যভূমি সংরক্ষণে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমি বধ্যভুমি উন্নয়নে ও মুক্তিযুদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিত চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের অন্যান্য উপজেলার মতো শায়েস্তাগঞ্জেও বধ্যভূমির উন্নয়ন হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বধ্যভূমি উন্নয়নে ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ করার কোন উদ্যোগ নেই।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2017 dailyhabiganjshomoy.Com
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD