
সময় ডেস্ক : ঈদযাত্রার ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে আগামী ২৪ মার্চ। কালোবাজারি রোধে এবার থেকে অনলাইনে টিকিট কেনার সময় যাত্রীর ফোন নম্বরে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) আসবে। ওটিপি ইনপুট দেওয়ার পর টিকিট আসবে। গতকাল বুধবার রাজধানীর রেল ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম, রেল সচিব ড. হুমায়ুন কবীর, রেলের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলী। রেলমন্ত্রী বলেন, টিকিটে কারসাজি বরদাশত করা হবে না। গত বছর থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), মোবাইল নম্বর এবং জন্মতারিখ দিয়ে নিবন্ধন করা যাত্রীর কাছে টিকিট বিক্রি করছে রেলওয়ে। টিকিটে যাত্রীর নাম থাকে। নিয়ম অনুযায়ী যাত্রীর পরিচয় নিশ্চিতে ভ্রমণের সময় সঙ্গে পরিচয়পত্র রাখতে হবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এই নিয়ম পালন ঢিলেঢালা হয়ে গেছে। অন্যের মোবাইল নম্বর ও এনআইডি দিয়ে টিকিট কেটে কয়েক গুণ দামে কালোবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ এসেছে। রেলের কর্মীরাও অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছে।
রেল সচিব বলেন, এ কারণে ওটিপি চালু করা হচ্ছে। যেই মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে টিকিট কেনা হবে, সেই নম্বরে ওটিপি যাবে। মোবাইল নম্বরের মালিক প্রকৃত টিকিট ক্রেতা হলে ওটিপি ইনপুট দেবেন। অন্য কেউ টিকিট নিতে পারবে না। এ পদ্ধতিতে কেউ কালোবাজারি করতে চাইলে ২০ বার টিকিট নিতে চাইলে সচল ২০টি মোবাইল নম্বর লাগবে।
রদার সাহাদাত আলী সংবাদ সম্মেলনে জানান, আগামী ১১ এপ্রিল ঈদ হবে ধরে ঈদযাত্রার সূচি সাজানো হয়েছে। ২৪ মার্চ ৩ এপ্রিলের, ২৫ মার্চ ৪ এপ্রিলের, ২৬ মার্চ ৫ এপ্রিলের, ২৭ মার্চ ৬ এপ্রিলের, ২৮ মার্চ ৭ এপ্রিলের, ২৯ মার্চ ৮ এপ্রিলের, ৩০ মার্চ ৯ এপ্রিলের ট্রেনের টিকিট বিক্রি হবে। এবারও ঈদযাত্রার টিকিট শতভাগ অনলাইনে বিক্রি হবে। সার্ভারের ওপর চাপ কমাতে ঢাকা থেকে পশ্চিমাঞ্চলগামী ট্রেনের টিকিটি সকাল ৮টা থেকে বিক্রি শুরু হবে। পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে দুপুর ২টায়। ফিরতি যাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে ৩ এপ্রিল। ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ফিরতি যাত্রার অগ্রিম টিকিট মিলবে।
সাহাদাত আলী জানান, কমলাপুর রেলস্টেশনের ওপর চাপ কমাতে ৩ এপ্রিল থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত নীলসাগর ও চিলাহাটী এক্সপ্রেস ট্রেন ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে চলবে। ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়া ৪১টি আন্তঃনগর ট্রেনের ৩৩ হাজার ৫০০টি টিকিট বিক্রি হবে। অতিরিক্ত ৫০টি মিটারগেজ ও ৩৬টি ব্রডগেজ বগি যুক্ত করা হবে। এতে আসন সংখ্যা আরও বাড়বে। ঈদের আগে-পরে পাঁচ দিন বিশেষ ট্রেন চলবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে। ৫ এপ্রিল থেকে বিশেষ ট্রেন চলবে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর, চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রুটে।
রেল সচিব বলেন, সেতু, রেললাইনসহ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে চাইলেই ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়। তাই রংপুর, রাজশাহী বিভাগের ট্রেনগুলোতে যথাসম্ভব বগি যোগ করা হচ্ছে ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করতে।
Designed by: Sylhet Host BD