
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পুরাতন প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে অনিয়ম, গোপনীয়তা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু সাঈমের বিরুদ্ধে।
সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে সীমানা প্রাচীরসহ অন্যান্য মেরামত কাজের জন্য ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। শর্ত ছিল- ২০২৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করে অব্যয়িত অর্থ ফেরত দিতে হবে।
কিন্তু অনুসন্ধানে জানা যায়, ২২ জুন কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল উত্তোলন করে ফেলেন কর্মকর্তা ডা. আবু সাঈম, অথচ সেসময় কাজের বাস্তব কোন অগ্রগতি ছিল না। সাংবাদিকদের অনুসন্ধান ও চাপের মুখে তিনি গোপনে ‘প্রীতি এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজের দায়িত্ব দেন। তবে এ বিষয়ে কোনো টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি বা গণঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রাচীর নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের সামগ্রী। সাংবাদিকদের আগমনের পর দ্রুত সেই সামগ্রী সরিয়ে ফেলা হয়।
‘প্রীতি এন্টারপ্রাইজ’-এর হয়ে কাজ করা ঠিকাদার অনু মিয়া প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন তিনি ৪ লাখ টাকায় কাজ পেয়েছেন, তবে পরে কাজের পরিমাণ নাকি বেড়েছে বলে জানান।
স্থানীয় অভিজ্ঞ ঠিকাদারদের অনেকে নাম প্রকাশ না করে বলেন, “এই কাজের কোনো টেন্ডারই হয়নি। আমরা কেউই আহ্বানপত্র পাইনি। পুরো ব্যাপারটি গোপনে এবং ব্যক্তিস্বার্থে পরিচালিত হয়েছে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু সাঈম দাবি করেন, “এই কাজের জন্য পাঁচজন ঠিকাদার টেন্ডারে অংশ নিয়েছেন।” তবে তিনি টেন্ডারের তালিকা, বিজ্ঞপ্তি, কার্যবিবরণী বা বরাদ্দ সংক্রান্ত কোন নথি দেখাতে অস্বীকৃতি জানান।
এ ঘটনায় সচেতন মহলে ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি—পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপচেষ্টা ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা আর না ঘটে।
Designed by: Sylhet Host BD