
হবিগঞ্জের শাহজীবাজার বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুরো জেলা প্রায় ১৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কেন্দ্রের ৩৩/১১ কেভি সুইচিং স্টেশনের কারেন্ট ট্রান্সফর্মার (সিটি) ও ব্রেকারে আগুন লাগার পর এই বিপর্যয় ঘটে।
আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই হবিগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন সকল এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে শহরসহ আশপাশের উপজেলাগুলো অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হয়, পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। অনেক পরিবারকে বিকল্প উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়েছে। এছাড়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শুক্রবার হবিগঞ্জের কোনো দৈনিক পত্রিকাও প্রকাশিত হয়নি।
বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত কর্মকর্তা মিজান জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে আগুন দেখা দিলে শায়েস্তাগঞ্জ থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গিয়ে আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল মুর্শেদ জানান, শাহজীবাজার সুইচিং স্টেশন থেকে দুটি লাইনের মাধ্যমে হবিগঞ্জে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তবে আগুনে একটি লাইনের সিটি ও ব্রেকার নষ্ট হওয়ায় কেবল একটি লাইনে বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ফলে শহরে এক ঘণ্টা করে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং চলছে।
তিনি আরও জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নতুন ব্রেকার এনে স্থাপনের কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে রাতের মধ্যেই পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন।
হবিগঞ্জ পিডিবির সহকারী প্রকৌশলী তাবশির বিন বাশার জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে মেরামত কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে।
এদিকে, মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেম জানান, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
Designed by: Sylhet Host BD