
ছোটবেলা থেকেই কেক বানানোর প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল নবীগঞ্জ পৌর এলাকার তরুণী মদিনা আক্তার জাকনার। শখের বশে কেক বানানো শুরু করলেও আজ সেই শখই তাকে পৌঁছে দিয়েছে উদ্যোক্তা হিসেবে নতুন পরিচয়ে। উদ্যোক্তা জীবনের পাশাপাশি তিনি অর্নাস ফাইনাল ইয়ারে অধ্যয়নরত।
৮-৯ বছর আগে থেকে নিজ প্রচেষ্টায় তিনি কেক বানানো শিখেন। কোনো প্রশিক্ষণ নয়, কেবল আগ্রহ আর চেষ্টা থেকে। তখন শুধুই পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদের জন্য কেক বানাতেন। তবে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্যোক্তা হওয়ার যাত্রা শুরু হয় তার। খুলে ফেলেন অনলাইনভিত্তিক ফুড পেজ Jakna’s Dream Page.
জাকনার উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন তার ছোট চাচ্চু (আমেরিকা প্রবাসী আবুল হাসান) ও তার ছোট চাচি। তাদের উৎসাহেই তিনি ফেসবুকে পেইজ খোলার সাহস পান। কিন্তু শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না।
বর্তমানে তিনি প্রিমিয়াম কোয়ালিটির কেক তৈরি করছেন। জন্মদিন, বিবাহ, বিবাহ বার্ষিকী, পানচিনি, গায়ে হলুদসহ সব অনুষ্ঠানের জন্য তিনি কাস্টমাইজড কেক সরবরাহ করেন। কেক তৈরিতে তিনি যেমন গুণগত মান ও স্বাস্থ্যকর উপকরণের প্রতি যত্নশীল, তেমনি কেকের ডিজাইনেও রাখেন বাড়তি মনোযোগ। তার তৈরি কেকের জনপ্রিয়তা বাড়ছে দিন দিন। ভ্যানিলা, চকলেট, স্ট্রবেরি, মাড কেক সবই রয়েছে তার মেন্যুতে, দামও বেশ সাশ্রয়ী।
সম্প্রতি নবীগঞ্জে তিন দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলায় অংশ নেন জাকনা। সেখানে তার স্টল ঘিরে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। কেকের স্বাদ ও ডিজাইনে মুগ্ধ হয়ে অনেকে প্রশংসা করেছেন। অনেকেই তাৎক্ষণিক অর্ডারও বুক করেন।
ইমন নামে একজন বলেন, “জাকনার কেকের স্বাদ সত্যিই অসাধারণ। স্থানীয়ভাবে এরকম মানের কেক পাওয়া যায়নি আগে। প্রতিবারই নতুন স্বাদের অভিজ্ঞতা হয়।”
তানিয়া বলেন, “কেকগুলো শুধু সুস্বাদুই নয়, দেখতে খুব সুন্দর ও আকর্ষণীয়। অনুষ্ঠানকে রাঙিয়ে তোলে। আমি ইতিমধ্যেই পরের অর্ডার দিয়ে রেখেছি।”
রাশেদ বলেন, “স্বাদ, মান, দাম-সব দিক দিয়েই জাকনার কেক অনন্য। নবীগঞ্জে এরকম উদ্যোক্তা থাকা আমাদের গর্বের বিষয়।”
জাকনা জানান, বর্তমানে তিনি আগের তুলনায় অনেক বেশি অর্ডার পাচ্ছেন। রিপিট কাস্টমারের সংখ্যা বেশি হওয়ায় তার ব্যবসার পরিধি বাড়ছে দ্রুত।
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আল্লাহর উপর ভরসা, সততা আর ইচ্ছাশক্তি থাকলে সবই সম্ভব। চেষ্টা চালিয়ে গেলে একদিন সফলতা আসবেই।”
Designed by: Sylhet Host BD