
স্টাফ রিপোর্টার ॥ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ’র সভাপতি শেখ হাসিনার ৭১তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৭ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের মধুমতি নদী তীরের প্রত্যন্ত পাড়াগাঁ টুঙ্গীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ঐতিহ্যবাহী শেখ পরিবারে জন্ম নেয়া শেখ হাসিনা সময়ের পরিক্রমায় আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। পিতার রাজনৈতিক উত্তরসূরি হয়ে তিনি পূরণ করে চলেছেন জাতির পিতার স্বপ্ন। বলিষ্ঠ নেতৃত্বগুণে শেখ হাসিনা এখন বিশ্ব নেতাদের অন্যতম একজন। পালিয়ে আসা মিয়ানমারের নির্যাতিত মুসলিম রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিয়ে যখন দেশ এক মানবিক সংকটে ঠিক সে মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে কোনো আনুষ্ঠানিকতা হচ্ছে না। শেখ হাসিনার একান্ত ইচ্ছাতেই এবার জন্মদিনের কেক কাটাসহ জাঁকজমকপূর্ণ সব আনুষ্ঠানিকতা পরিহার করা হয়েছে। গতকাল দলের পক্ষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ ধরনের আনুষ্ঠান না করতে দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন। মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনা ছাড়া রোহিঙ্গাদের প্রতি সমবেদনামূলক মানবিক কর্মসূচি পালনের জন্য তিনি নেতাকর্মীদের পরামর্শ দেন। এদিকে নিজের ৭১তম জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে তিনি সেখানে যান। শেখ হাসিনার জন্মদিনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাদ জোহর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, সকাল ১০টায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহার মেরুল বাড্ডা ও সকাল সাড়ে ১০টায় খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (সিএবি) ওয়াই.এম.সি.এ চ্যাপেল, ২৯ সেনপাড়া, মিরপুর-১০ এবং সুবিধাজনক সময়ে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৮১ সালের ১৩ থেকে ১৫ই ফেব্র“য়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। আর ওই বছরই ১৭ই মে দীর্ঘ ৬ বছর প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি ৩টি আসন থেকে নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনের পরে তিনি পঞ্চম জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে এবং সে বছরের ২৩শে জুন দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি সপ্তম জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও ওই হামলায় ২৪ জন নিহত এবং পাঁচশ’ নেতাকর্মী আহত হন। ২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে বিশাল বিজয় অর্জন করে। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকা এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে যুগান্তকারী উদ্যোগের জন্য ‘আইসিটি টেকসই’ উন্নয়ন পুরস্কার লাভ করেন শেখ হাসিনা। এর আগে রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং সাফল্যের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে তিনি ‘সাউথ সাউথ’ ও ‘সেরেস’ পদকসহ অন্যান্য পুরস্কারে ভূষিত হন। বাংলাদেশে নারী ও শিশুর উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য ইউনেস্কো থেকে ‘শান্তির বৃক্ষ (ট্রি অব পিস) অভিধায়ও সিক্ত হন। শত ব্যস্ততার মাঝেও শেখ হাসিনা সাহিত্য চর্চা ও সৃজনশীল লেখায় নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। ওরা টোকাই কেন, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, আমার স্বপ্ন আমার সংগ্রাম তার লেখা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। দক্ষতার সঙ্গে দল ও সরকার পরিচালনার পাশাপাশি সম্প্রতি রোহিঙ্গা ইস্যুতে উচ্চ মানবিকতার পরিচয় দিয়ে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি কেড়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। প্রায় সাড়ে চার লাখ রোহিঙ্গা নাগরিকের আশ্রয় দিয়ে, তাদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন এক মানবিক দেশ হিসেবে। শেখ হাসিনার এই অবস্থান প্রশংসা কুড়িয়েছে বিশ্ববাসীর।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply